লকডাউনে অনাহার-ঋণ থেকে আত্মহত্যায় মুক্তি খুঁজলেন পশির

আপডেট : ১৬ মে ২০২০, ০১:০৯ পিএম

লকডাউনে বেকারত্ব, পরিবারর অনাহার পরিস্থিতি আর ঋণ পরিশোধের চাপে ঠাকুরগাঁওয়ে দুই সন্তানের বাবা পশিরউদ্দিন ওরফে কেনকেনু (৪৬) আত্মহত্যা করেছেন।

একদিকে শারীরিক অসুস্থতা অন্যদিকে কাজ না পাওয়ায় চড়া সুদে ঋণ নিয়েছিলেন। সেটি পরিশোধ করতে ব্যর্থ এবং কর্মহীন হয়ে পড়ায় তিনি নির্মম এই পথ বেছে নিয়েছেন।

শনিবার পরিবার, এলাকাবাসী ও জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে এমনটাই জানা গেছে।

ঘটনাটি ঘটেছে সদর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের বিষ্ণপুর গ্রামে। পেশায় হোটেল শ্রমিক ছিলেন পশির উদ্দিন।

বুধবার সকালে বাড়ির পাশের একটি নির্জন ধানক্ষেতের পাশে আত্মহত্যা করেন পশির। প্রাথমিকভাবে তার আত্মহত্যার পেছনে দারিদ্র্য, পরিবারে অভাব-অনটন ও ঋণের বোঝার কথা উঠে এসেছে বলে জানান স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম।

তিনি বলেন, পশিরউদ্দিন স্ত্রী, ছেলে-মেয়েকে নিয়ে জেলার রাণীশংকৈল উপজেলার নেকমরদ এলাকায় একটি গুচ্ছ গ্রামে থাকতো। করোনায় পরিস্থিতিতে বাড়িতে এসেছিল সে।

এই জনপ্রতিনিধি জানান, পরিবারটি অতি দরিদ্র। এক শতক জমির ওপর ঘর তুলে থাকেন পশিরের বাবা দারাবদ্দিন।

পশিরের স্ত্রী রোকেয়া বেগম জানায়,তার স্বামী ডায়াবেটিকের রোগী। এরপর কাজ না পাওয়ায় অনাহারের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল পরিবারে। তার ওপর ঋণের বোঝা। সে কারণে চরম পথ বেছে নিয়েছেন  স্বামী পশির।

পাশের গ্রাম দেহনের খবির উদ্দিন বলেন, নানা ধরনের চাপই তার মনে অবসাদ তৈরি করেছিল। শেষে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করলো সে। তার এই অপমৃত্যু কেউ মেনে নিতে পারছে না।

বাবা ৭০ বছর বয়সী দারাবদ্দিন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘বাবা হয়ে সন্তানকে সাহস আর সান্ত্বনা দিয়েও বাঁচাতে পারলাম না।’

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) তানভিরুল ইসলাম বলেন, পশির ঋণে জর্জরিত ছিলেন। তার মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত