করোনার সংক্রমণ রোধে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দিনাজপুরের বিরামপুরসহ পার্শ্ববর্তী উপজেলাগুলোতে দুগ্ধ খামারিরা অব্যাহত লোকসানে হয়ে পড়েছিলেন দিশেহারা। অবশেষে সেনাবাহিনীর ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের উদ্যোগে সকল দুধ ন্যায্যমূল্যে বিক্রি শুরু হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে দুগ্ধ খামারিদের মাঝে।
বিরামপুর পার্শ্ববর্তী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলাগুলোতে ছোটবড় ২৯টি দুগ্ধ খামার রয়েছে। প্রতিদিন এসব খামার থেকে প্রায় ১ হাজার ৪’শ লিটার থেকে ১ হাজার ৫’শ লিটার দুধ উৎপাদন হয়।
খামারিরা জানান, করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে দুধের মূল ক্রেতা মিষ্টির দোকানসহ হোটেলগুলো বন্ধ হয়ে যায়। ফলে দুধের দাম অর্ধেকে নেমে এসে বিক্রিও প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এতে করে খামারিদের চরম লোকসান গুনতে হয়।
বিরামপুরের সবচেয়ে বড় দুগ্ধ খামারি জোতবানী গ্রামের এমআরএফ ডেইরি ফার্মের স্বত্ত্বাধিকারী মো. ফারুক হোসেন জানান, তার ফার্মের ৩০টি গাভী থেকে প্রতিদিন ৪’শ লিটার দুধ উৎপাদন হয়। এসব দুধের একটি বড় অংশ ব্র্যাক ক্রয় কেন্দ্রে এবং মিষ্টির দোকানে বিক্রি করতেন। কিন্তু করোনার প্রভাবে ব্র্যাক ক্রয় কেন্দ্র দুধ ক্রয় কমে দেয়। মিষ্টির দোকানসহ হোটেলগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় দুধ নিয়ে চরম বিপাকে পড়েন তিনি। গুনতে হয় চরম লোকসান।
শ্যামনগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনিসুর রহমান জানান, দোকানপাট বন্ধ থাকায় দুধ বিক্রি করতে না পেরে গাভীর খাবার কমে দিতে বাধ্য হন। এতে করে দুধ উৎপাদন কমে যায়। এর প্রভাবে একটি গাভী মারা যায়, অন্য গাভীরা শারীরিকভাবে দুধ উৎপাদনের সক্ষমতাও কমে যায়।
পার্শ্ববর্তী উপজেলার দুগ্ধ খামারি বাবু মিয়া জানান, করোনার কারণে দুধ বিক্রি কমে গেলেও গো খাদ্যের দাম দ্বিগুণ হয়ে যায়। প্রতি বস্তা ভূষি ৮৫০ টাকা থেকে বেড়ে হয় ১৩৫০ টাকা, ফিড প্রতি বস্তা ৫৫০ টাকা থেকে বেড়ে হয় ৮৫০ টাকা।
এছাড়া অন্যান্য গো-খাদ্যের দামও বেড়ে যায়। এতে করে খামারিরা দিশেহারা হয়ে পড়েন।
খামারি ফারুক হোসেন, আনিসুর রহমান এবং বাবু মিয়া জানান, দুগ্ধ খামারিদের দুর্দশার কথা জেনে কিছুদিন আগে সেহাবাহিনীর একটি দল তাদের সাথে যোগাযোগ করে। পরে স্থানীয় মিষ্টির দোকান এবং ব্র্যাকের সাথে যোগাযোগ করে উৎপাদিত সকল দুধ ন্যায্যমূল্যে বিক্রির ব্যবস্থা করেন। এতে করে দুগ্ধ খামারিদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
বিরামপুর ও হাকিমপুরের সবচেয়ে বড় মিষ্টির দোকান পদ্ম কলির স্বত্ত্বাধিকারী সুবল কুমার ঘোষ জানান, করোনা সংক্রমণ রোধে সরকারের নির্দেশনায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করতে বাধ্য হন তারা। এতে করে অসংখ্য কর্মচারীদের ব্যয় নিয়ে চরম ক্ষতির মুখে পড়েন তারা।
কিছুদিন আগে সেনাবাহিনীর একটি দল তাদের সাথে যোগাযোগ করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শুধুমাত্র পার্সেলে দুধের তৈরি মিষ্টান্ন সামগ্রী বিক্রির ব্যবস্থা করেন। এতে করে দুগ্ধ খামারিরাও যেমন তাদের কাছে দুধ বিক্রি করে লাভবান হচ্ছেন তেমনি তার মতো অন্যান্য মিষ্টির দোকানদারও চরম লোকসানের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছেন।
সেনাবাহিনীর ৬৬ পদাতিক ডিভিশনের ক্যাপ্টেন আবু আহাদ হিমেল জানান, দুগ্ধ খামারিদের দুর্দশার কথা জানতে পেরে সেনাবাহিনী উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে উৎপাদিত সকল দুধ বিপণনের ব্যবস্থা করা হয়। এতে করে দুগ্ধ খামারিরা ক্ষতি পুষিয়ে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।
