ঈদ উপলক্ষে করোনাভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর বরাদ্দকৃত এককালীন উপহারের আড়াই হাজার টাকা পাচ্ছেন না গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের দুর্গম চরের কুশাহাটা গ্রামের শতাধিক পরিবারের কেউ।
সহস্রাধিক মানুষের আবাসস্থল এই চরবাসী মৎস্য শিকারের পাশাপাশি কৃষি কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। কভিড-১৯ এর প্রভাবে কাজ কর্ম বন্ধ থাকায় মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন তারা।
গ্রামবাসী জানান, করোনাভাইরাসের কারণে আয়-রোজগার বন্ধ হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ১০ কেজি চাল ও নগদ ৫০ টাকার সহায়তা পেয়েছি। এ দিয়ে কি হয়। শুধু চাল হলে কি সংসার চলে?
কুশাহাটার ছোরাপ মন্ডল, সাহের ফকির, খয়ের ব্যাপারীসহ স্থানীয় অনেকেই বলেন, মাছ ধরে আমরা জীবিকা নির্বাহ করতাম। ভাইরাসের কারণে হাটবাজারসহ সবকিছু বন্ধ থাকায় বিপদে পড়েছি। শুনেছি প্রধানমন্ত্রী মোবাইলের মাধ্যমে আড়াই হাজার করে টাকা দিচ্ছেন, কিন্তু কারা পাচ্ছেন এই টাকা। আমাদের এই চরের কাউকে মোবাইল ব্যাংকিয়ে টাকা পাওয়ার খবর পাইনি। চেয়ারম্যান, মেম্বাররাও তাদের ভোটার কার্ড বা নাম লিখে নেয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে দৌলতদিয়ার ১ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার আবুল কাশেম জানান, আমার নির্বাচনী এলাকার ১০০ জনকে এই সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে। এখানে মোট ভোটার ২ হাজার ৯০০ জন। ওয়ার্ডের কর্মহীনদের যারা বাদ পড়েছেন পরবর্তীতে সহযোগিতা আসলে তাদের দেয়া হবে। তবে চরের প্রত্যেক পরিবারকে ১০ কেজি করে চাল ও নগদ ৫০ টাকা করে দিয়েছেন।
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবায়েত হায়াত শিপলু বলেন, মোবাইলে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের জন্য উপজেলার ৬ হাজার ৭০০ জনের তালিকা চূড়ান্ত হয়েছে। কুশাহাটাবাসী প্রধানমন্ত্রীর উপহারের তালিকায় না থাকার বিষয়টি জানা নেই। তিনি যাচাই-বাছাই করে দেখবেন।
