সুপার ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে পানি বৃদ্ধি পেয়ে উপকূলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। গত বুধবার বিকেল থেকে কোথাও কোথাও পাঁচ থেকে সাত ফুট পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সাগর ও নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে। কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয় প্লাবিত হয়েছে। উপড়ে গেছে অসংখ্য গাছপালা। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মাছের ঘের এবং ফসলি জমি। বিদ্যুতের খুঁটি ও গাছপালা উপড়ে তছনছ অবস্থা উপকূলজুড়ে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :
ঝালকাঠি : জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ে হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টির সঙ্গে সঙ্গে সুগন্ধা ও বিষখালী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। কোথাও কোথাও পাঁচ থেকে সাত ফুট পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলার চার উপজেলার নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে।
ঝালকাঠি সদরের কলাবাগান, লঞ্চঘাট, সবুজবাগ, রাজাপুর উপজেলার পালট বড়ইয়া, কলাকেপা, কাঁঠালিয়া উপজেলার লঞ্চঘাট এলাকা, আরুয়া বাজার, জয়খালী, চিংড়াখালী, বড় কাঁঠালিয়া, শৌলজালিয়া, কুচুয়া খেয়াঘাট এলাকায় সুগন্ধা ও বিষখালী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে জেলায় অন্তত ৫০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। মাছের ঘের তলিয়ে গেছে, কৃষকের ফসলি জমি ও কৃষির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এদিকে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাব কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় আশ্রয়কেন্দ্র থেকে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছে মানুষ। জেলার ৪৭৪টি আশ্রয়কেন্দ্রে গতকাল রাত পর্যন্ত প্রায় ২০ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছিল। নদী উত্তাল থাকায় সুগন্ধা ও বিষখালী নদীতে সব ধরনের নৌযান চলাচল এখনো বন্ধ রয়েছে।
বরগুনা : কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলার বিভিন্ন স্থানে বেড়িবাঁধ ভেঙে অর্ধশত গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। উপড়ে গেছে অসংখ্য গাছপালা। আংশিক বিধ্বস্ত হয়েছে নয় সহস্রাধিক ঘরবাড়ি। এছাড়াও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শতাধিক মাছের ঘের এবং অন্তত ৩০০ হেক্টর ফসলি জমি। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ৩টায় বরগুনা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে ঘূর্ণিঝড়-পরবর্তী প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ।
বরগুনায় আশ্রয়কেন্দ্রে আসার সময় হৃদরোগে শহীদুল ইসলাম (৬৪) নামে একজন হোটেল ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়েছে বলে বালিয়াতলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সেলিম শাহনেওয়াজ জানান।
পটুয়াখালী : আম্পানের আঘাতে প্রবল জলোচ্ছ্বাসে ৮ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়াও জেলার সব উপজেলাতেই বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে সদর উপজেলার ছোট বিঘাই ইউনিয়নের ভাজনা, দশমিনা উপজেলার রণগোপালদী ইউনিয়নের বুড়িরকান্দা এলাকার বাঁধ বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধের তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে দ্রুত তা মেরামতের জন্য কাজ শুরু করা হয়েছে।
হাতিয়া (নোয়াখালী) : গত বুধবার রাতে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে হাতিয়ায় বেড়িবাঁধ ভেঙে এবং বেড়িবাঁধ না থাকায় বিভিন্ন ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে, কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত, বিদ্যুতের খুঁটি ও গাছপালার ব্যাপক ক্ষতি হয়।
