যেভাবে করাচিতে বিল্ডিংয়ের ওপর বিধ্বস্ত হলো বিমান (ভিডিও)

আপডেট : ২৩ মে ২০২০, ০২:৫৩ পিএম

পাকিস্তানের করাচির ঘন বসতিপূর্ণ এলাকায় ভেঙে পড়ে পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের একটি বিমান। শুক্রবারের এই ঘটনায় ৯৯ জন যাত্রীর ৯৭ জনেরই মৃত্যু হয়েছে।

এনডিটিভি জানায়, মাত্র এক কিলোমিটার দূরত্বে ছিল বিমানবন্দর, যেখানে বিমানটির অবতরণের পথে ছিল। সেসময় একটি বাড়িতে বিমানের লেজের অংশ ধাক্কা খায়। এতেই সব শেষ।

 একটি বিস্ফোরণ ঘটে এবং কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে বাতাসে কালো ধোঁয়া উড়তে থাকে। ওই এলাকায় থাকা একটি বাড়ির সিসিটিভিতে এমন ভয়াবহ দৃশ্য ধরা পড়ে।

লাহোর থেকে ৯৯ জন যাত্রী নিয়ে উড়াল দেয় ফ্লাইট পিকে ৮৩০৩। শুক্রবার বিকালে করাচির জিন্না আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের কথা ছিল সেটি। ৯৭ জনের মৃত্যু হয়েছে এই দুর্ঘটনায়।

জানা যায়, প্রথমবার ধীরে ধীরে অবতরণের চেষ্টা করে বিমানটি, সেটি ব্যর্থ হলে দ্বিতীয়বার চেষ্টা করা হয়। বিমানের ট্র্যাকিং ওয়েবসাইটে শেষবারের গতিবিধি রেকর্ড হয়েছে, একজন পাইলটকে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারকে বলে শোনা গিয়েছে, তাদের দুটি ইঞ্জিনটিই বিকল হয়েছে গিয়েছে, তারপরেই বিপদসঙ্কেত “মেডে মেডে মেডে” বলে চিৎকার করতে থাকেন পাইলট।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, প্রথমে বিমানটি একটি মোবাইলের টাওয়ারে ধাক্কা খায়, পরে মালির এর মডেল কলোনি এলাকায় জিন্না গার্ডেনের বাড়িগুলোর ওপরে ভেঙে পড়ে। বেশ কয়েকটি বাড়ি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এর আগে পাক মিডিয়ায় সেই ছবি দেখানো হয়েছে।

করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে জারি করা লকডাউনে দীর্ঘসময় বন্ধ ছিল পাক বিমান পরিষেবা, এক সপ্তাহ আগে তা চালু হয়। তারপরেই এই দুর্ঘটনা।

পবিত্র রমজান শেষে পাকিস্তানিরা যখন ঈদুল ফিতর উদ্‌যাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে তখন এমন ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে দেশটিতে। যাত্রীদের অধিকাংশই ঈদ উপলক্ষে বাড়ি ফিরছিল।

এর আগে ২০১৬ সালে ৭ ডিসেম্বর পাকিস্তানে আরেকটি ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা ঘটেছিল। সেই ঘটনায় বিমানে থাকা ৪৮ জনেরই মৃত্যু হয়, তারপর এটিই সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনা ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত