শরীয়তপুরের সুরেশ্বর উপজেলার এক গ্রামের দুই ছেলেমেয়ের জননী আমেনা বেগম (৭০)। স্বামী মারা গেছেন অনেক আগেই। ছেলেমেয়েদের বিয়ে দিয়ে দিয়েছেন, তারা সংসার নিয়ে ব্যস্ত।
আমেনা বেগম থাকতেন ছেলের সংসারে। কিন্তু তারা এখন বৃদ্ধা মাকে বোঝা মনে করায় সঙ্গে রাখতে চাচ্ছেন না। তাই বৃদ্ধা মা আমেনা বেগমকে রাতের আঁধারে কেরানীগঞ্জের আগানগরে রাস্তায় ফেলে পালিয়ে যায় ছেলে সুজন।
ঘটনাটি ঘটেছে ২৬ মে মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে। ছেলে সুজন আগানগর ছোট মসজিদ এলাকায় রাস্তার পাশে মাকে বসিয়ে রেখে চলে যায়। ঝড়-বৃষ্টির মধ্যে সারারাত রাস্তায় পড়ে ভিজেছেন বৃদ্ধা আমেনা বেগম।
সকালে স্থানীয় কয়েকজন বিষয়টি কেরানীগঞ্জ সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রামানন্দ সরকারকে জানালে তিনি সাথে সাথে গাড়ির ব্যবস্থা করে অসুস্থ বৃদ্ধাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠিয়ে দেন।
বৃদ্ধার সাথে কথা হলে তিনি বলেন, তার নাম আমেনা বেগম। তার গ্রামের বাড়ি সুরেশ্বর এলাকায়। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। ছেলে সুজন গতকাল রাতে তাকে বলে মা তুমি এখানে বসো আমি একটু পরে এসে নিয়ে যাবো, কিন্তু ছেলে আর তাকে নিতে আসেনি। এর বেশি কিছু তিনি বলতে পারেননি।
কেরানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মীর মোবারক হোসেন দিগন্ত বলেন, মহিলাটিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে তাকে আমরা ভর্তির রেখেছি। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পরে জানা যাবে তার কি কি সমস্যা রয়েছে। ৭০ বছরের একজন মাকে সন্তানেরা রাস্তায় ফেলে রেখে যাবে বিষয়টা ভাবতেও কষ্ট হয়।
