ভোলার মনপুরা, লালমোহন ও চরফ্যাশনে ঘূর্ণিঝড়ে দুই শতাধিক ঘর বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। এ ছাড়া ঝোড়ো বাতাসে এসব এলাকায় প্রচুর গাছপালা ও বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে স্থানীয়রা। তারা জানান, বুধবার মধ্য রাতের দিকে আকস্মিক ঘূর্ণিঝড়ে ঘর-বাড়ি ও গাছপালার সাথে সাথে বিদ্যুতের খুঁটিও উপড়ে পড়ে।
ঘূর্ণিঝড়ে মনপুরা উপজেলার ৪টি ইউনিয়নের শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়। ঝড়ে গাছপালারও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার হাজির হাট, কলাতলীচর, কাজীরচর, উত্তর সাকুচিয়া ও দক্ষিণ সাকুচিয়া বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে।
মনপুরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার বিপুল চন্দ্রদাস জানান, ঘূর্ণিঝড়ে শতাধিক ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। আমি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সাথে আলাপ করে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ২০ কেজি করে চাল দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত ঘরগুলোর জন্য নগদ টাকা ও টিনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। শীঘ্রই তা বিতরণ করা হবে।
লালমোহন ও চরফ্যাশন উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের আকস্মিক ঘূর্ণিঝড় ও টর্নেডোর আঘাতে শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। অনেকের ঘরের চালা উড়িয়ে নিয়ে গেছে। ভেঙে পড়েছে অসংখ্য গাছপালা। ভেঙে পড়েছে বিদ্যুতের খুঁটি।
ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিয়ন গুলো হচ্ছে, লালমোহনের লর্ডহার্ডিঞ্জ ও চরউমেদ ইউনিয়ন এবং চরফ্যাশনের নূরাবাদ, নীলকমল ও ওসমানগঞ্জ ইউনিয়ন। এছাড়া লালমোহনে একটি রেজিষ্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন বিধ্বস্ত হয়।
এদিকে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে আজ সকালে নিজ এলাকায় ছুটে যান ভোলা-৩ আসনের সংসদ সদস্য নূরুন্নবী চৌধুরী শাওন। এসময় ক্ষতিগ্রস্তদের যত দ্রুত সম্ভব প্রয়োজনীয় সহায়তা দেয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
নূরুন্নবী চৌধুরী শাওন বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। তালিকা প্রস্তুত করে গৃহ নির্মাণ সামগ্রী দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
