তাড়াশে ঠিকাদারের হামলা

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে হত্যার চেষ্টা, আহত ৪

আপডেট : ২৯ মে ২০২০, ০২:০২ এএম

তাড়াশ উপজেলা ৫০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রোগীর খাদ্য সরবরাহকারী ঠিকাদারের লোকজন গত মঙ্গলবার দুপুরে হামলা চালিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জামাল মিয়াকে। তারা মারপিট ও মাছ কাটার বঁটি দিয়ে তাকে হত্যার চেষ্টা করে বলে ডা. জামাল মিয়া থানায় মামলা করেছেন।

ঘটনার সময় সন্ত্রাসীরা হাসপাতালের চার কর্মচারীকে আহত করে। আহতরা হলেন কুকম্যান শরিফুল ইসলাম (৩৫), অফিস সহকারী মনিরুজ্জামান (৩৮), স্টোর কিপার শাহাদত হোসেন (৪০) ও জুনিয়র মেকানিক শামীম হোসেন (৩০)।

ঘটনার রাতেই ডা. জামাল মিয়া বাদী হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও দুজনকে আসামি করে তাড়াশ থানায় একটি হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। মামলার আসামিরা হলেন তাড়াশ পূর্বপাড়ার মৃত তোলার ছেলে গোলাম মোস্তোফা (২৮), একই গ্রামের কছের আলীর ছেলে মো. মাসুদ (৩০) ও সোনাপাতিল গ্রামের মৃত আশরাফ হোসেনের ছেলে সিদ্দিকুর রহমান বাহাদুর (৩৫)।

তাড়াশ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জামাল মিয়া বলেন, ঘটনার পরদিন গত বুধবার সকালে হাসপাতালে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওই ঠিকাদারের লাইসেন্স ও ঠিকাদারি বাতিল দাবি করে সিরাজগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন বরাবর চিঠি দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া হামলাকারী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানানো হয়। শুক্রবারের মধ্যে তাদের গ্রেপ্তার করা না হলে শনিবার (আগামীকাল) থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সব কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মবিরতি কর্মসূচি শুরু করবেন।

তিনি আরও বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে রোগীদের জন্য খাদ্যদ্রব্যের পরিমাণ ও মান যাচাইয়ে হাসপাতালের রান্নাঘরে যাই। এ সময় খাদ্য সরবরাহকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আবদুর রাজ্জাক এন্টারপ্রাইজের নিয়োগকৃত ওই সন্ত্রাসীরা রান্নাঘরের সব দরজা বন্ধ করে তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাছ কাটা বঁটি নিয়ে কোপাতে আসে।

মেসার্স আবদুর রাজ্জাক এন্টারপ্রাইজের মালিক আবদুর রাজ্জাক জানান, ওই তিনজন সাব ঠিকাদার। তাদের এই অপকর্মের দায় তিনি নেবেন না।

তাড়াশ থানার ওসি মাহবুব আলম বলেন, আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত