চট্টগ্রাম বন্দর হাসপাতালে তৈরি হবে করোনা ইউনিট

আপডেট : ০৩ জুন ২০২০, ০৬:০৭ এএম

করোনায় চট্টগ্রাম বন্দরের ছয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর মৃত্যু ও প্রায় অর্ধশত আক্রান্ত হওয়ার পর এবার করোনার চিকিৎসা দেওয়ার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে বন্দর হাসপাতালকে। উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকা হাসপাতালের নতুন ভবনেই তৈরি হবে করোনা ওয়ার্ড। করোনা রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য সেখানে আইসিইউ ও ভেন্টিলেশন সুবিধাও রাখা হবে বলে জানিয়েছেন বন্দর কর্মকর্তারা।

বন্দর সূত্র জানায়, করোনা আক্রান্ত চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিকিৎসাসেবার জন্য এর আগে বন্দর রিপাবলিক ক্লাবে দশ শয্যার আইসোলেশন ওয়ার্ড করা হয়েছিল। কিন্তু সেখানে সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা থাকায় ইতিমধ্যে সেটি গুটিয়ে নিয়ে বন্দর হাসপাতালে এর কার্যক্রম শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক দেশ রূপান্তরকে বলেন, বন্দর হাসপাতালের নতুন ভবনেই ৪০ থেকে ৫০ শয্যার করোনা ওয়ার্ড গড়ে তোলার প্রস্তুতি চলছে। সেখানে অন্তত পাঁচটি আইসিইউ বেড ও ভেন্টিলেটর স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ের মধ্যে চিকিৎসকসহ প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

জানা যায়, চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক লোক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা ইতিমধ্যে কভিড-১৯ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন। ইতিমধ্যে বন্দর চেয়ারম্যানের পিএ আবদুল মান্নানসহ ৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী করোনায় প্রাণ হারিয়েছেন। মারা গেছেন তাদের বেশ ক’জন স্বজনও। আক্রান্তদের প্রায় বেশিরভাগই নিজ নিজ বাসায় আইসোলেশনে রয়েছেন। ফলে পরিবারের অন্য সদস্যরাও করোনা সংক্রমণের ঝুঁকির মধ্যে রয়েছেন। কিন্তু যে হারে চট্টগ্রামে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে সে তুলনায় চিকিৎসা সুবিধা অপ্রতুল। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে করোনা রোগীদের জন্য আইসিইউ সাপোর্ট অপরিহার্য হলেও এখানে আইসিইউ বেডের চরম সংকট রয়েছে। এর আগে বন্দর চেয়ারম্যানের পিএ শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। কিন্তু আইসিইউ সুবিধা মেলেনি তার। এ পরিস্থিতি বিবেচনায় সম্প্রতি চট্টগ্রাম বন্দরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের এক সভায় বন্দর হাসপাতালে করোনা চিকিৎসা চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বন্দর সচিব এ প্রসঙ্গে বলেন, করোনা চিকিৎসার জন্য কী কী  ইকুইপমেন্ট প্রয়োজন হতে পারে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে এসব ইকুইপমেন্ট  সংগ্রহের ব্যবস্থা করা হবে।

এদিকে বন্দর কর্তৃপক্ষের অনুরোধে সোমবার বন্দর হাসপাতালের সুযোগ-সুবিধাগুলো সরেজমিন ঘুরে দেখেন চট্টগ্রাম ফিল্ড হাসপাতালের প্রধান উদ্যোক্তা ডা. বিদ্যুৎ বড়ুয়া। এ সময় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম আবুল কালাম আজাদসহ বন্দরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা করোনা চিকিৎসা চালু করতে কী ধরনের ইকুইপমেন্ট ও জনবল প্রয়োজন হবে সে বিষয়েও আলোচনা করেন।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রামে বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, জেনারেল হাসপাতাল, বিআইডিআইডি ও বেসরকারি উদ্যোগে স্থাপিত চট্টগ্রাম ফিল্ড হাসপাতালে করোনা রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত