নির্বাচন আসছে। অস্থির হচ্ছে পরিস্থিতি। আর ডোনাল্ড ট্রাম্প ঝুঁকছেন ধর্মকর্মে। যাচ্ছেন গির্জায় গির্জায়। কথা বলছেন পবিত্র বাইবেল উঁচিয়ে। মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন দেশটির ধর্মীয় নেতারা।
‘প্রেসিডেন্ট বাইবেলকে ব্যবহার করছেন,’ বিবিসির কাছে এভাবে সরাসরি অভিযোগ করেন ওয়াশিংটনের বিশপ মারিয়ান বুড্ডে, ‘এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে যিশুর শিক্ষা সমর্থন করে না।’
বিবিসি জানিয়েছে ট্রাম্প মঙ্গলবার রাতে হঠাৎ হোয়াইট হাউজের সামনের গির্জায় যান। বুধবার ওয়াশিংটন ডিসির আরেকটিতে যাওয়ার কথা রয়েছে।
ভ্যাটিকানের কমিউনিকেশনস ডিপার্টমেন্টের পরামর্শক জেমস মার্টিন নামের এক ধর্মীয় নেতা টুইটে লিখেছেন, ‘আমাকে বিষয়টি বুঝতে দিন। এটা বিরক্তিকর। বাইবেল কারো সম্পত্তি নয়। গির্জা কারো প্রচারণার জায়গা নয়। ধর্ম রাজনৈতিক হাতিয়ার নয়। সৃষ্টিকর্তা আপনার খেলনা নয়।’
ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর এশিয়ান অঞ্চলের মতো আমেরিকায় সাম্প্রদায়িকতা চরম আকার ধারণ করে। বর্ণবাদ সেই আদিকাল থেকেই দেশটির ‘কলঙ্ক’ হলেও অন্য প্রেসিডেন্টদের আমলে এতটা মাথাচড়া দেয়নি।
এর ভেতর গত মাসের শেষ দিকে মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে জর্জ ফ্লয়েড নামের ৪৬ বছর বয়সী এক কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তিকে হত্যা করেন চার শ্বেতাঙ্গ পুলিশ। এই ঘটনার একাধিক ভিডিও ফুটেজ ভাইরাল হলে অভিযুক্তরা ফেঁসে যান। শুরু হয় আন্দোলন। সেই আন্দোলন থামাতে ট্রাম্প প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। ওদিকে ৩ নভেম্বর প্রেসিডেন্ট নির্বাচন।
‘প্রেসিডেন্টকে বাইবেল উঁচিয়ে কথা বলতে দেখাটা বর্ণবাদ ছাড়া কিছুই নয়,’ মন্তব্য করে রাব্বি জ্যাক মোলিন নামের আরেক ধর্মীয় নেতা বলেছেন, ‘শান্তিপূর্ণ আন্দোলন ঠেকাতে সেনাবাহিনী নামানোর পর এই ধরনের কর্মকাণ্ড আমার দেখা ধর্মের অন্যতম অপব্যবহার।’
