চীনের একটি প্রাইমারি স্কুলে এক দুষ্কৃতকারী ছুরি নিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। তাতে কোনো প্রাণহানি না ঘটলেও ৩৭জন শিক্ষার্থীসহ ৩৯ জনের আহতের খবর পাওয়া গেছে।
কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এএফপি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে দক্ষিণ চীনের একটি স্কুলে এই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলাকারী একজন নিরাপত্তারক্ষী বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে।
গুয়ানজি রাজ্যের ক্যাংউ কাউন্টির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সবাইকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তবে কারোর অবস্থা জটিল নয়।
প্রতিদিনকার মতোই সকালবেলায় বেলা ক্লাসের জন্য ওয়াংফু সেন্ট্রাল প্রাইমারি স্কুলে সকালে উপস্থিত হয় শিক্ষার্থীরা। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঘটে তাদের ওপর হামলার ঘটনা। হামলাকারীর বয়স প্রায় ৫০ বলে জানা গেছে। তাকে আটক করা হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।
এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “এই হামলায় ৩৭ জন শিক্ষার্থী হালকা আহত হয়েছেন। তবে দু’জন বয়স্কের জখম গুরুতর। চিকিৎসার জন্য তাদের সবাইকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তবে তারা শঙ্কা মুক্ত।”
করোনাভাইরাস সংকট নিয়ন্ত্রণে আসায় কয়েক মাস বন্ধ থাকার পর গত মাসে এই অঞ্চলের স্কুলগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে।
গত কয়েক বছরে চীনের স্কুলগুলোতে এ ধরনের হামলা আরও ঘটেছে। ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নিরাপত্তা বাড়িয়েছে কর্তৃপক্ষ।
গত নভেম্বরে উইনান প্রদেশে একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুলের দেয়াল টপকে শিক্ষার্থীদের ওপর ক্ষতিকর তরল ছিটিয়ে দেয় এক দুষ্কৃতকারী। এতে ৫১ জন আহত হয়, যাদের বেশির ভাগই শিক্ষার্থী।
গত বছরের সেপ্টেম্বরে হুবেই প্রদেশে ৪০ বছর বয়সী এক লোকের হামলায় মৃত্যু হয় আট স্কুল শিক্ষার্থীর। একই বছরের এপ্রিলে হুনান প্রদেশের একটি প্রাইমারি স্কুলে ছুরি নিয়ে হামলা চালালে দুজনের মৃত্যু হয়, আহত হন আরও দুজন।
২০১৮ সালের এপ্রিলে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার সময় এক লোক ছুরি নিয়ে হামলা চালালে প্রাণ হারায় আট শিক্ষার্থী। ২০১৭ সালে জিয়ানজু প্রদেশে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় আটজনের মৃত্যু হয়েছিল; আহত হয়েছিলেন অনেকে।
