কেরালার হাতি হত্যা এখন ভারতে রাজনৈতিক, সাম্প্রদায়িক ও আইনি ইস্যু। এর জের ধরে বিজেপি সংসদ সদস্য মানেকা গান্ধীর বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য দিয়ে প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে কেরালা পুলিশ।
এই সময় জানায়, গর্ভবতী হাতির মৃত্যু নিয়ে মানেকার ভুয়া মন্তব্যের জেরে বিষয়টি সাম্প্রদায়িক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ পুলিশের।
মালাপ্পুরম জেলার পুলিশ প্রধান আইপিএস আব্দুল করিম খবরের সত্যতা স্বীকার করে জানান, ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৫৩ ধারায় বিজেপি নেত্রীর বিরুদ্ধে এফআইআর রুজু হয়েছে। আইপিসির এই ধারায়, দাঙ্গা বাধানোর অভিপ্রায়ে অযাচিত উসকানি দেওয়ার অভিযোগ তোলা হয়েছে।
বুধবার সাবেক এ কেন্দ্রীয় মন্ত্রী এক ভিডিও ক্লিপিংয়ে বলেন, হাতিটিকে আনারসের মধ্যে বোমা ভরে খাওয়ানো হয়েছিল। এই ঘটনা প্রসঙ্গেই তিনি মন্তব্য করেন, ভারতের সবচেয়ে হিংস্র জেলা হলো মালাপ্পুরম। কিন্তু ২৯ মে পালাক্কাডে গর্ভবতী হাতির মৃত্যু হয়েছিল, মালাপ্পুরম জেলায় নয়।
মানেকার মন্তব্যের জেরে হাতির মৃত্যু নিয়ে দুদিন ধরে উত্তাল সোশ্যাল মিডিয়া। সেখানে অনেকের মন্তব্য ছিল সাম্প্রদায়িক।
সরকারি সমীক্ষা অনুযায়ী, কেরালার এই জেলায় অধিকাংশ বাসিন্দাই মুসলিম। মুসলিম অধ্যুষিত জেলাগুলোর মধ্যে প্রথমেই রয়েছে মালাপ্পুরম। হাতির মৃত্যু নিয়ে মানেকা গান্ধী প্রথম থেকেই টার্গেট করেন মালাপ্পুরমকে। তার কথায়, এই জেলায় নারী হত্যা প্রায়ই হয়। হিন্দু-মুসলিম উত্তেজনাও প্রবল। সবসময় ভয়ের বাতাবরণ তৈরি থাকে পুরো এলাকায়।
আরও বলেন, মালপ্পুরমে রোজ কোনো না কোনো ঘটে। পশুদের ওপর তারা যথেচ্ছাচারে নির্যাতন করে। এই পঞ্চায়েতের লোকজন শুধু হাতিদের উপর অত্যাচার নয়, সর্বত্র বিষ ছড়িয়ে রাখে অন্যান্য পশু মারতে। তারা পাখি মারে। রাস্তার কুকুরকে হত্যা করে। প্রতিদিন এভাবেই সেখানে খুন হচ্ছে।
যদি কেন্দ্রীয় মন্ত্রণালয়ের রিপোর্টে মানেকার বক্তব্যের সমর্থন মেলেনি। খুন, হত্যার চেষ্টা, পণের জন্য খুন, চুরি, ছিনতাই, ধর্ষণ এই জাতীয় অপরাধে ভারতের প্রথম ৩০০টি জেলার মধ্যে নাম নেই মালাপ্পুরমের।
সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর মন্তব্যের প্রেক্ষিতে মালাপ্পরম পুলিশ মানেকা গান্ধীর বিরুদ্ধে সাতটি অভিযোগ পায়। সেখানকার পুলিশ সুপার জানায়, জনৈক জলিলের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রুজু হয়েছে। জেলার এক আইনজীবীর অভিযোগ, মানেকা জেলা ও জেলার বাসিন্দাদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন বক্তব্য পেশ করেছেন। তাই মানেকা গান্ধীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
