সংস্কার কাজের অংশ হিসেবে ময়মনসিংহ সার্কিট হাউজ মাঠকে প্রাচীরে ঘেরার যে পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বিভাগীয় প্রশাসন, তার বিরোধিতা করেছেন জাতীয় দলের টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।
এনিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি বিবৃতি পোস্ট করেছেন মাহমুদউল্লাহ। যেখানে নিজের শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত মাঠকে উন্মুক্ত রাখার দাবি বেশ করেন তিনি। এই অলরাউন্ডর বলেছেন, ‘এই মাঠের উন্মুক্ততা ময়মনসিংহের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সাথে জড়িত।’
সার্কিট হাউজ মাঠে তোলার নিজের একটি ছবিও পোস্ট করেন মাহমুদউল্লাহ। জাতীয় দলের পঞ্চপাণ্ডবের একজন এই তারকা। তিনি লিখেছেন-
‘আসসালামু আলাইকুম। আমাদের প্রিয় সার্কিট হাউজ মাঠে তোলা ছবিটি। আমার ক্রিকেট খেলার হাতেখড়ি এই মাঠেই। আমার ক্রিকেটের পথচলার শুরু এখান থেকেই। আমার মনে হয় ময়মনসিংহের সমস্ত ক্রীড়াবিদদের জীবনের শুরু এই মাঠেই।’
‘যখনই ময়মনসিংহে আসি, এই মাঠে আমি অন্তত একবারের জন্য হলেও যাই। তা সে দিন হোক অথবা রাত কারণ এই মাঠের সাথে অনেক স্মৃতি, অনেক আবেগ জড়িত। এই মাঠের উন্মুক্ততা ময়মনসিংহের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সাথে জড়িত। বর্তমানে এই মাঠকে ঘিরে বেশ কিছু উন্নয়নমূলক প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। উন্নয়নকে আমি স্বাগত জানাই এবং আমি আশা করি এই মাঠের উন্মুক্ততা ও ঐতিহ্য বজায় রেখে যথাযথ উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়িত হবে ইন্-শা-আল্লাহ।’
রাজনীতি এবং ক্রীড়া সংস্কৃতির জন্য বিখ্যাত ময়মনসিংহের সার্কিট হাউজ ময়দান। পাশেই ব্রহ্মপুত্র নদের পাড় আর প্রাচীন জয়নুল উদ্যান। ক্রীড়াপল্লির প্রায় অর্ধশতাধিক ক্লাব দাঁড়িয়ে আছে মাথা উঁচু করে। আবার বিনোদনের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু হিসেবেও বিবেচনা করা হয় এ মাঠকে।
কিন্তু সাম্প্রতি সময়ে এই মাঠকে প্রাচীর দিয়ে ঘিরে ফেলার পরিকল্পনা করা হয়েছে। মাঠের সৌন্দর্য বৃদ্ধি, বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি বসানো ও মাঠের চারপাশে প্রাচীর তৈরির জন্য সাড়ে ৬ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করেছে ময়মনসিংহ বিভাগীয় প্রশাসন।
তবে প্রাচীর নির্মাণ নিয়ে ইতিমধ্যেই দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে নগরবাসী। একপক্ষ এ সৌন্দর্যবর্ধনে সায় দিলেও অন্যপক্ষ প্রতিবাদে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে। করোনাকালেও তারা কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দিয়ে মাঠে নেমেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এনিয়ে চলছে আলোচনা, সমালোচনার ঝড়।
