ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ আতঙ্কে উপকূলবাসী

আপডেট : ০৮ জুন ২০২০, ০৭:০৪ এএম

সামুদ্রিক জোয়ার নিয়ে শঙ্কায় থাকা চট্টগ্রামের উপকূলীয় উপজেলা আনোয়ারায় ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধে ভাঙন দেখা দিয়েছে। খোলা বেড়িবাঁধ দিয়ে জোয়ারের পানি ওঠা-নামায় বার আউলিয়া এখন জলাবদ্ধ এলাকা। দ্রুত সময়ের মধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ সংস্কার করা না হলে যেকোনো সময় বাঁধ ভেঙে উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা নোনাপানিতে তলিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

এ অবস্থায় চলতি বর্ষা মৌসুম নিয়ে শঙ্কায় দিন কাটাচ্ছেন আনোয়ারা উপকূলের অর্ধলক্ষ মানুষ। এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, বরাদ্দের অভাবে বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করা যাচ্ছে না।

গত ২০ মে ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে উপকূলীয় ইউনিয়ন রায়পুরের ছত্তার মাঝির ঘাট, পরুয়াপাড়া বাতিঘর, গলা কাটার ঘাট, বাইগ্যার ঘাট এলাকার ২১১০ মিটার বাঁধ ভেঙে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্থানীয়রা দীর্ঘদিন ধরে টেকসই বাঁধ নির্মাণের দাবি জানালেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। সরকার মোটা অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ দিলেও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদাররা সাব-কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে কাজ করেন। ফলে বাঁধের জন্য বরাদ্দ সিংহভাগ অর্থই নষ্ট হয়। আর হাজার হাজার মানুষকে ফি বছর বিপদে পড়তে হয়। এ অবস্থা থেকে তারা অবসান চান।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের ৯ আগস্ট একনেকের সভায় উপকূল রক্ষায় ২৮০ কোটি টাকা অনুমোদন হয়। তারমধ্যে আনোয়ারা ও কর্ণফুলী উপজেলার জন্য ২৫০ কোটি আর পতেঙ্গার জন্য ৩০ কোটি টাকার প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে দুই উপজেলায় ৪৩টি প্রকল্পের কাজ চলমান। এসব প্রকল্পের আওতায় শিকলবাহা ও ইছামতি খালে দুই হাজার ৭৪০ মিটার এলাকায় প্রতিরক্ষা বাঁধ, সাপমারা ও ভরাশঙ্খ খাল খননের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণ, নয়টি স্লুইচগেট নির্মাণসহ রায়পুর ও জুঁইদ-ী ইউনিয়নের ৯ কিলোমিটারের বেশি এলাকায় বাঁধসহ সিসি ব্লক বসানো হচ্ছে। ইতিমধ্যে এসব প্রকল্পের প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত দুই বছর আগে রায়পুর ইউনিয়নের বার আউলিয়া অংশে ১৩১০ মিটার এলাকায় সিসি ব্লকসহ স্থায়ী বাঁধ নির্মাণকাজ শুরু করেছিল হাসান ব্রাদার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওই এলাকায় কিছু ব্লক ডাম্পিং করলেও বাঁধ নির্মাণ না করায় পুরো অংশটি এখনো অরক্ষিত। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটির এমন ভূমিকায় প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে ২৮০ কোটি টাকার সরকারি এ উন্নয়ন প্রকল্প।

স্থানীয় বাসিন্দা মহিউদ্দিন, মো. ইউসুফ, ছালেহ আহমদ ও জয়নাল আবেদীন বলেন, বেড়িবাঁধটির নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করতে তাগিদ দিয়ে আসছিল সবাই। কিন্তু ঠিকাদারের ধীরগতিতে বাঁধ নির্মাণকাজ এখনো শুরুই হয়নি। তারা আরও বলেন, ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে খোলা বেড়িবাঁধ দিয়ে জোয়ারের পানি ঢুকে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। ওই সময় বার আউলিয়া এলাকার অন্তত ১০০ ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। এছাড়া অমাবস্যা ও পূর্ণিমার জোয়ারের পানি ওঠা-নামা করায় এলাকার বাসিন্দারা অসহনীয় দুর্ভোগে পড়েন।

চট্টগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী অনুপম দাশ বলেন, আনোয়ারা উপকূল রক্ষায় মেগা প্রকল্পের কাজ চলমান। এরমধ্যে ঘূর্ণিঝড় আম্পানে নতুন করে ২১১০ মিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসব বাঁধ রক্ষার জন্য আপাতত জিও ব্যাগ বসানো হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত