নরসিংদীতে করোনার উপসর্গ নিয়ে গৃহবধূর মৃত্যু

আপডেট : ০৮ জুন ২০২০, ০১:৫৯ পিএম

নরসিংদীতে করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে কাজল রানী সাহা (৫৭) নামে এক গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে।

রবিবার বিকেল সাড়ে ৪টায় ঢাকার রিজেন্ট হাসপাতালে তিনি মারা যান।

এদিকে নরসিংদীতে নতুন করে আরও ১১৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৮০৩ জন।

সোমবার সকালে নরসিংদীর সিভিল সার্জন ডা. ইব্রাহিম টিটন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

নিহত কাজল রানী সাহা নরসিংদী পৌর শহরের পশ্চিম কান্দাপাড়া এলাকার ব্যবসায়ী শংকর লাল সাহার স্ত্রী।

নরসিংদী করোনা প্রতিরোধ সেল এর কুইক রেসপন্স টিমের আহ্বায়ক ও নরসিংদী সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ শাহ আলম মিয়া জানান, কাজল রানী সাহা গত ২৫ মে থেকে হালকা জ্বর, ঠান্ডা-কাশি ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। পরে তার শারীরিক পরিস্থিতির অবনতি হলে গত ৫ জুন তাকে ঢাকার রিজেন্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সেখানে পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে তাকে নিবিড় পরিচর্চা কেন্দ্র আইসিউতে রাখা হয়। আইসিউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রবিবার বিকেলে রিজেন্ট হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।

এর আগে গত ২ জুন তার করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করে স্বাস্থ্য বিভাগ। নমুনা পরীক্ষার ফল এখনও পাওয়া যায়নি। মারা যাওয়ার খবর পেয়েই আমাদের কুইক রেসপন্স টিম নিহতের স্বজনদের সাথে যোগাযোগ করে নিহতের সৎকারের ব্যবস্থা গ্রহণ করে। পরে রাতেই শহরের দত্তপাড়া শ্মশান ঘাটে সিভিল সার্জন অফিসের পরামর্শক্রমে স্বাস্থ্যবিধি মেনে তার সৎকার করা হয়েছে।

এদিকে সিভিল সার্জনের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার করোনাভাইরাসে সংক্রমিত সন্দেহে ১৯৬ জনের নমুনা সংগ্রহ করে স্বাস্থ্য বিভাগ।

পরে সোমবার রাজধানীর মহাখালীর ইনস্টিটিউট অব পাবলিক হেলথে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।

রবিবার রাতে সেসব নমুনা পরীক্ষার ফলাফল এসেছে। এতে নতুন আরও ৫৮ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।

এর মধ্যে জেলা কোভিড হাসপাতালে করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া নূরে আলম (৩৮) এর রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। আর সোমবার করোনাভাইরাসে সংক্রমিত সন্দেহে ১৭৬ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরদিন রাজধানীর মহাখালীর ইনস্টিটিউট অব পাবলিক হেলথে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়।

সোমবার সকালে সেসব নমুনা পরীক্ষার ফলাফলে নতুন আরও ৬১ জনের করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।

এনিয়ে জেলায় ২৪ ঘণ্টায় ১১৯ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। নতুন আক্রান্তদের মধ্যে সদর উপজেলায় ৬৮ জন, রায়পুরা উপজেলায় ১৫ জন, পলাশ উপজেলায় ৯ জন, শিবপুর উপজেলায় ১৭ জন, মনোহরদী উপজেলায় ৪ জন ও বেলাব  উপজেলায় ৬ জন রয়েছে।

এখন পর্যন্ত জেলায় মারা গেছেন মোট ১১ জন। এর মধ্যে নরসিংদী সদরে ৮ জন, পলাশে ১ জন, রায়পুরায় ১ জন ও বেলাব উপজেলায় ১ জন।

নরসিংদীর সিভিল সার্জন ডা. মো. ইব্রাহীম টিটন বলেন, জেলায় করোনা বিস্তার রোধে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও স্বাস্থ বিভাগ সমন্ময় করে কাজ করে যাচ্ছে। জেলার কোন কোন স্থানে করোনা রোগীর সংখ্যা বেশি তা চিহ্নিত করা হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত