কানে হেডফোন লাগিয়ে গান শুনছিল মেয়েটি। আচমকা হামলা চালিয়ে তাকে জঙ্গলে টেনে নিয়ে যায় চিতাবাঘ। ভারতের উত্তরাখণ্ডে এই ঘটনা ঘটে।
টাইমস অব ইন্ডিয়া জানায়, শনিবার নৈনিতালের রামনগর এলাকার বেইলপাড়াও ফরেস্ট রেঞ্জে নিজের বাড়ির কাছেই একটি জলাশয়ের পাড়ে বসে কানে হেডফোন দিয়ে গান শুনছিল অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী মমতা।
ওই কিশোরীর উপর আচমকা হামলা চালায় বড় একটি চিতাবাঘ। মমতাকে টানতে টানতে জঙ্গলের ভেতরে নিয়ে যায় বাঘটি।
রবিবার বন দপ্তরের কর্মকর্তা জানান, একটি ঝোপের ধার থেকে মেয়েটির দ্বিখণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়েছে।
বেইলপাড়াই ফরেস্ট রেঞ্জের বন কর্মকর্তা সন্তোষ পন্ত বলেন, গ্রামবাসীদের থেকে খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। সেখান থেকে একটি হেডফোন আর একটি চিরুনি উদ্ধার হয়েছে। মেয়েটির কানে হেডফোন ছিল, তাই হয়তো সে চিতাবাঘ এসেছে তা টের পায়নি।'
ওই এলাকায় গত এক মাসে চিতাবাঘের হানায় মৃত্যু হয় অন্তত আটজনের। চিতাবাঘ ধরতে দুটি খাঁচা ও সাতটি ক্যামেরা বসিয়েছে বন দপ্তর। সেই চিতাবাঘ ঘটনাস্থলে ফের এলেও তাকে ধরা যায়নি।
পন্ত বলেন, ট্র্যাপ ক্যামেরায় চিতাবাঘটি দেখা গিয়েছিল। মেয়েটিকে যেখানে মারা হয়, সেখানে সেটি এসেছিল। এরপর সে খাঁচার দিকেও এগোচ্ছিল। কিন্তু গ্রামবাসীরা চিত্কার শুরু করায় সে আবার অন্যদিকে পালিয়ে যায়।
ময়নাতদন্তের পর মমতার দেহ তার পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মমতার পরিবারকে তিন লাখ রূপির ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে বন দপ্তর। ইতিমধ্যেই ৯০ হাজার রূপির চেক তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
