গণস্বাস্থ্যের করোনা কিটের পরীক্ষা আরও পিছিয়ে গেল

আপডেট : ০৮ জুন ২০২০, ০৮:৪০ পিএম

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের গবেষকদের উদ্ভাবিত করোনার অ্যান্টিবডি কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য আরও কিট চেয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ)।

সোমবার দেশ রূপান্তরকে এ কথা জানিয়েছেন বিএসএমএমইউর উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া।

তবে কেন্দ্রের করোনা কিট তৈরি প্রকল্পের প্রধান সমন্বয়কারী ডা. মুহিব উল্লাহ খোন্দকার দেশ রূপান্তরকে বলেন, তাদের স্টকে এই মুহূর্তে অ্যান্টিবডি কিট নেই। এটি তৈরি করতে এক সপ্তাহ সময় লাগবে। তবে নমুনা সংগ্রহের পদ্ধতিসহ দুই-একদিনের মধ্যে বিএসএমএমইউকে এন্টিজেন সরবরাহ করা হবে।

মুহিব উল্লাহ বলেন, গত ২ জুন বিএসএমএমইউকে চিঠি দেওয়া হয়েছিল। তাতে বিএসএমএমইউকে দ্রুত অ্যান্টিবডি পরীক্ষার ফলাফল জাতীয় ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরে জমা দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। তার পরিপ্রেক্ষিতে চলতি সপ্তাহে কিটের কার্যকারিতার প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা ছিল। নতুন করে কিট চাওয়ায় তা বিলম্ব হবে। এতে করে অ্যান্টিবডি কার্যকারিতার ফল সংক্রান্ত প্রতিবেদন জমা দিতে আরও সময় লাগবে।

বিএসএমএমইউ উপাচার্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষার বিশেষজ্ঞ কমিটির প্রধান অনুসন্ধানকারীর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষা-নিরীক্ষার কাজ প্রায় শেষ হয়েছে। সুষ্ঠুভাবে কাজটি শেষ করতে আরও কিছু কিটের প্রয়োজন। গণস্বাস্থ্য বাকি কিট সরবরাহ করলে আগামী সপ্তাহের শুরুর দিকে প্রতিবেদন জমা দেওয়া যেতে পারে।

বিএসএমএমইউর ভাইরোলজি বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. শাহীনা তাবাসসুমের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের কমিটি করোনাভাইরাস শনাক্তে গণস্বাস্থ্যের কিটের অ্যান্টিবডির কার্যকারিতার ফল পরীক্ষার কাজ করছেন। কমিটির সদস্যরা বর্তমানে কিট পরীক্ষার ডাটা প্রসেসিংয়ের কাজ করছেন।

মুহিব উল্লাহ খোন্দকার বলেন, পরীক্ষার পদ্ধতি ঠিক করে তার একটি নমুনাসহ অ্যান্টিজেন বিএসএমএমইউকে দেওয়া হবে। এবার যে অ্যান্টিজেন সরবরাহ করা হবে তা দিয়ে করোনা পরীক্ষা করতে চিকিৎসকদের কিছু করতে হবে না। রোগী নিজেই টেস্টের স্যাম্পল দেবে এবং চিকিৎসকরা তা পরীক্ষা করে করোনা শনাক্ত করতে পারবেন।

গত ২ জুন গণস্বাস্থ্য বিএসএমএমইউকে দেওয়া এক চিঠিতে সরবরাহ করা অ্যান্টিজেন ফেরত চেয়ে চিঠি দেয়। চিঠিতে বলা হয়, যথাযথ প্রক্রিয়ায় রোগীদের লালা সংগ্রহ না করায় অ্যান্টিজেন পরীক্ষার ফলে ত্রুটি পাওয়া যাচ্ছে। সে সময় মহিবুল্লাহ খন্দকার দেশ রূপান্তরকে বলেছিলেন, আমাদের দুইটি কিট। একটি হচ্ছে অ্যান্টিবডি ও অপরটি অ্যান্টিজেন। অ্যান্টিবডি কিটের কার্যকারিতা পরীক্ষা প্রায় শেষ পর্যায়ে। আমরা বিএসএমএমইউকে একটি চিঠি দিয়ে বলেছি যে এই কিটের ব্যাপারে প্রতিবেদন সম্পন্ন করে যাতে তারা ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরে দিয়ে দেয়। আর অ্যান্টিজেন কিটের ব্যাপারে বলেছি, তারা যে নমুনা সংগ্রহ করছে, সেই নমুনায় থুথু ও কফ থাকায় পরীক্ষায় ত্রুটি পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, লালা আমাদের জিহ্বা থেকে নিঃসৃত হয়। এটি আমাদের মুখের সবচেয়ে তরল পদার্থ। জিহ্বার আশপাশ থেকেই এটি আসে। কিন্তু, কিটের জন্য সংগ্রহ করা নমুনায় দেখা গেছে, মানুষ (যাদের নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে) কাশি দিয়ে জোর করে লালা বরে করে দিচ্ছে। এর ফলে গলার ভেতরের দিক থেকে কফ চলে আসছে। যা লালার সঙ্গে মিশে যাচ্ছে। সেই কারণেই অ্যান্টিজেন কিটে ফল ‘এরর’ দেখাচ্ছে।

 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত