করোনাভাইরাস সংক্রমণের মধ্যে মানুষকে সেবা দিতে আসা যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের মাউন্ট সিনাই হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. ফেরদৌস খন্দকারকে বাধ্যতামূলক কোয়ারেন্টাইনে রাখার কারণ জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্টদের আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (জননিরাপত্তা বিভাগ) সচিব, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের (সুরক্ষা সেবা বিভাগ) সচিব ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিবের উদ্দেশ্যে মানবাধিকারকর্মী ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এ এম জামিউল হক ফয়সালের পক্ষে অপর আইনজীবী গাজী ফরহাদ রেজা ই-মেইলে এই নোটিশ পাঠান। নোটিশপ্রাপ্তির দুই দিনের মধ্যে এ বিষয়ে জবাব চাওয়া হয়েছে। তা না হলে আইনি প্রক্রিয়ার দারস্থ হবেন বলে জানান নোটিশদাতা আইনজীবী।
নোটিশে বলা হয়েছে, ডা. ফেরদৌস গত ৭ জুন বাংলাদেশের করোনা আক্রান্ত মানুষের সেবা দিতে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। করোনাভাইরাসে সম্মুখ সারির যোদ্ধাদের জন্য সঙ্গে আনেন স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী। কিন্তু ট্যাক্সের অজুহাতে সেগুলো আটকে রাখা হয়েছে। একইসঙ্গে আইশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে বাসায় যেতে না দিয়ে ঢাকার ব্র্যাক ট্রেনিং সেন্টারে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে পাঠিয়েছে। অথচ ওই দিন চীন থেকে আগত মেডিকেল টিমকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়নি। কীসের ভিত্তিতে একজন করোনাযোদ্ধাকে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে, যেখানে একই সময়ে বিদেশ থেকে আসা যাত্রীদের এবং পরবর্তীতে চীন থেকে আসা চিকিৎসকদের অভ্যন্তরীণ প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়?
নোটিশদাতা জানান, ম্যানহাটনের প্রাচীনতম মাউন্ট সিনাই হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. ফেরদৌস যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের আশা ও ভরসার প্রতীক। করোনাভাইরাসের ভয়ে যেখানে বিশ্বের অনেক বাঘা বাঘা চিকিৎসক তাদের চেম্বার বন্ধ করেছেন, সেখানে নিউইয়র্কের মৃত্যুপুরীতে নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি ঘরে ঘরে গিয়ে করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা দিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশে ফিরেছেন করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসা দিতে। তবে পত্রপত্রিকার মাধ্যমে জানা যায়, তাকে বিমানবন্দর থেকে বের হতে দেওয়া হয়নি। দেশের এই ক্রান্তিকালে শুধু প্লাজমা হিরো হিসেবে নন, একজন প্রথিতযশা চিকিৎসক হিসেবে দেশের অনেক মানুষের উপকারে আসতে পারেন তিনি।
