বিশিষ্ট গবেষক-সম্পাদক, অভিধান বিশেষজ্ঞ, বাংলা একাডেমির সম্মানিত ফেলো, অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল কাইউমের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছে বাংলা একাডেমি।
শুক্রবার সকাল আনুমানিক সাড়ে দশটার দিকে রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরীর নিজ বাসভবনে বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। বিকেল পৌনে ৩টায় রাজধানীর আজিমপুর কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়েছে।
অধ্যাপক আব্দুল কাইউমের মৃত্যুতে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী এক শোক বার্তায় বলেন, তিনি ভাষা-গবেষণা, মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের তথ্য-উদ্ঘাটন, পাণ্ডুলিপি পাঠোদ্ধার, সাময়িকপত্র-চর্চার মধ্য দিয়ে তার গবেষক-সত্তার অনন্যতার পরিচয় দিয়েছেন। 'সাময়িকপত্রে সাহিত্য প্রসঙ্গ', 'চকবাজারের কেতাবপট্টি', ''অভিধান'- এর মতো বই তাকে স্মরণীয় করে রাখবে। অধ্যাপক রাজিয়া সুলতানা সহযোগে ' আলাওল রচনাবলি' সম্পাদনা তার অক্ষয় কীর্তি।
তিনি আরও বলেন, বাংলা একাডেমির একান্ত সুহৃদ অধ্যাপক মোহাম্মদ আবদুল কাইউম জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে অধ্যাপনার মধ্য দিয়ে শিক্ষক হিসেবে তার বিশিষ্টতার স্বাক্ষরও রেখে গেছেন।
হাবীবুল্লাহ সিরাজী তার আত্মার শান্তি কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
এর আগে, কবি নজরুল ইনস্টিটিউটের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুল কাইউম-এর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ।
প্রাবন্ধিক ও গবেষক ড. মোহাম্মদ আবদুল কাইউম ১৯৩১ সালের ১২ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা এক সময়ের জনপ্রিয় ঔপন্যাসিক ও প্রকাশক মোহাম্মদ কাসেম । মখদুমিয়া লাইব্রেরি ছিল তার পিতার প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান । শিক্ষালাভ করেন ঢাকা কলেজ, ঢাকা ও লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ে । তিনি বিভিন্ন কলেজ, বাংলা একাডেমি ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করার পর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ‘নজরুল অধ্যাপক’ হিসেবে অধ্যাপনা করেন ।
