আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, কেন্দ্রীয় ১৪ দলের মুখপাত্র, খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্হায়ী কমিটির সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ।
এক শোক বার্তায় তিনি বলেন, “মহান মুক্তিযুদ্ধ, বাংলাদেশের রাজনীতি ও সকল আন্দোলনে বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মোহাম্মদ নাসিমের রয়েছে অপরিসীম অবদান। তার মৃত্যুতে জাতি আজ সত্যিকারের নিবেদিতপ্রাণ রাজনীতিবিদ হারাল— যা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।”
রওশন এরশাদ আরও বলেন, “মোহাম্মদ নাসিমের পিতা শহীদ ক্যাপ্টেন এম মুনসুর আলী ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, জাতির পিতার ঘনিষ্ঠ সহচর এবং জাতীয় চার নেতার একজন। পিতার যোগ্য উত্তরসূরী হিসেবে মোহাম্মদ নাসিম রাজনীতিসহ বিভিন্নক্ষেত্রে যে অসামান্য অবদান রেখেছেন জাতি তা চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।”
বিরোধীদলীয় নেতা মরহুমের বিদেহী আত্নার মাগফেরাত কামনা এবং শোক-সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।
হাসপাতালে টানা নয় দিন ধরে লাইফ সাপোর্টে থাকা নাসিমকে শনিবার বেলা ১১টা ১০ মিনিটের দিকে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
নাসিমের বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। তিনি স্ত্রী ও তিন সন্তান রেখে গেছেন।
করোনা উপসর্গ নিয়ে গত ১ জুন বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি হন নাসিম। পরে পরীক্ষায় তার দেহে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে।
গত ৫ জুন সকালে তার ‘ব্রেইন স্ট্রোক’ হলে সেখানেই তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) থাকা নাসিমের শারীরিক অবস্থা অবনতি হলে নেওয়া হয় লাইফ সাপোর্টে।
এরপর তিন দফা তার করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষায় ফল নেগেটিভ এলেও তার লাইফ সাপোর্ট সরানো সম্ভব হয়নি।
কারাগারে নিহত জাতীয় চার নেতার একজন এম মনসুর আলীর ছেলে নাসিম পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
এবার মন্ত্রিত্ব না পেলেও দলের সভাপতিমণ্ডলীতে থাকার পাশাপাশি ১৪ দলীয় জোটের মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি।
আওয়ামী লীগের বিগত সরকারগুলোর সময় স্বাস্থ্য ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী পদে দায়িত্ব পালন করেছিলেন মোহাম্মদ নাসিম।
জ্যেষ্ঠ এ আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তারা তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
