করোনাভাইরাস পৃথিবীর চালচিত্র বদলে দিয়েছে। এর কারণে পরিবর্তন আসছে মানুষের জীবনাচারে। দিন দিন মানুষ ধর্মের প্রতি আগ্রহী হচ্ছে। ধর্মীয় নিয়ম-কানুন মেনে চলার প্রতি বাড়ছে উৎসাহ। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশের সরকার নাগরিকদের এমন উদ্যোগে সাড়াও দিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ইতালির সরকার সে দেশের সব কারাগারে মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে।
ইউরোপের চতুর্থ বৃহত্তম মুসলিম জনগোষ্ঠী ইতালিতে বসবাস করলেও রাষ্ট্রটি ইসলামকে ধর্ম হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। সেখানে মাত্র আটটি স্বীকৃত মসজিদ রয়েছে। ২০০৮ সালের পর বহু মসজিদের নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে ইতালিতে ৮০০ নামাজের স্থান বা নামাজঘর রয়েছে।
ইতালির ইউনিয়ন অফ ইসলামিক কমিউনিটির হিসাব অনুযায়ী, দেশটিতে মুসলিমদের জন্য মাত্র ৭৬টি কবরস্থান রয়েছে। সম্প্রতি ইতালি সরকার ও ইউনিয়ন অব ইসলামিক কমিটিজ অ্যান্ড অরগানাইজেশন ইন ইতালির (ইউসিওআইআই) মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। যার অধীনে ইমামরা কারাগারের মুসলিম বন্দিদের ধর্মীয় শিক্ষা-দীক্ষা দেওয়ার ও সেখানে নামাজের ইমামতি করার সুযোগ পাবেন। কারা প্রশাসনের প্রধান বিচারক বার্নার্ডো পেট্রেলিয়া ও ইউসিওআইআইয়ের সভাপতি ইয়াসিন লাফরাম চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেন।
মে মাসের শেষ সপ্তাহে করোনাভাইরাসের কারণে বন্ধ থাকা দেশটির মসজিদ ও প্রার্থনাকক্ষগুলো খুলে দেওয়ার ব্যাপার ইতালির প্রধানমন্ত্রী জিউসেপ কোঁতে ও ইউসিওআইআইয়ের প্রতিনিধি দলের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সেই চুক্তির আলোকে এই নতুন সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
ইতালির বিচার মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, ইতালির ৬০ হাজার বন্দির মধ্যে ১০ হাজারই বিদেশি। তাদের বেশির ভাগ মরক্কো, তিউনিশিয়া ও রোমানিয়ার নাগরিক। ইতালির বন্দিদের মধ্যে সাত হাজার ২০০ জন মুসলিম। তাদের জন্য ৯৭ জন ধর্মীয় শিক্ষক রয়েছেন। ৪৪ জন বন্দি দাবি করেন, তারা জেলেই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন।
চুক্তি অনুযায়ী ইউসিওআইআই ইতালিতে ইমামের দায়িত্ব পালনকারীদের একটি তালিকা দেবে, যারা সারা দেশের কারাগারের মুসলিম বন্দিদের ধর্মীয় দিক-নির্দেশনা দেবেন এবং তাদের নামাজের ইমামতি করবেন। কর্মক্ষেত্র নির্বাচনে ইমামদের মতামত নেওয়া হবে।
ইতালিয় মুসলিমদের নেতা লাফরাম আলী বলেন, এটি খুবই স্বস্তিকর বিষয়। নতুন সমঝোতা চুক্তির আলোকে ইতালির সব কারাগারে জামাতের সঙ্গে নামাজ আদায় করা সম্ভব হবে। এটি মূলত পাঁচ বছর আগের একটি প্রজেক্টের সুফল, যার অধীনে ইতালির আটটি কারাগারে ধর্ম শিক্ষা দেওয়া শুরু হয়েছিল।
