ভোগ ম্যাগাজিনে বাংলাদেশি গার্মেন্টসকর্মীদের সেই ‘অসমতার গল্প’

আপডেট : ১৪ জুন ২০২০, ০২:২৩ পিএম

যে পোশাক নিজেরা তৈরি করছেন, সেটি কখনো পরে দেখেন না। সেই ইচ্ছাও খুব একটা তাদের জাগে না। আর জাগলেও মুখ ফুটে বলতে চান না। কিন্তু কেন? বিখ্যাত ব্রিটিশ ডিজাইনার ওসমান ইউসুফজাদা এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজেছেন ‘হার ড্রিমস আর বিগার’ শর্টফিল্মে। গল্পটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিশ্বনন্দিত ফ্যাশন ম্যাগাজিন ‘ভোগ’।

ভোগের ব্রিটিশ সংস্করণের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, অসমতার গল্প নিয়ে ২০১৮ সালে নির্মিত এই শর্টফিল্মটি লন্ডন ফ্যাশন উইকের ওয়েবসাইটে সম্প্রতি দেখানো হয়।

ওসমানের জন্ম আফগানিস্তানে। পরিবারের সঙ্গে পাকিস্তানেও কিছুদিন থেকেছেন। এরপর পাড়ি দেন বার্মিংহামে।

এই শর্টফিল্মে বাংলাদেশের  কয়েকজন গার্মেন্টসকর্মীর কথা তুলে ধরা হয়েছে, যারা ভালো করে জানেন না কারা তাদের এই পোশাকগুলো কিনে ব্যবহার করেন। অল্প-স্বল্প যে ধারণা তাদের, তাতে গর্বের ছাপ যেমন আছে, তেমনি আছে বিস্ময়।

গল্প শুরু হয়েছে একটি সুটকেস থেকে। যার ভেতরে লন্ডন থেকে কেনা অনেক পোশাক। উপরে লেখা ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’। পোশাকগুলো বাংলাদেশের গার্মেন্টসকর্মীদের দেয়া হয়।

তারপর তারা বৃত্তাকারে বসে একটি একটি করে নাড়াচড়া করতে থাকেন। কেউ আবার সেলফিও তোলেন।

যারা এগুলো ব্যবহার করেন তাদের সম্পর্কে ধারণা কী? এমন প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশের কর্মীরা বলেন, ‘ওনারা আমাদের থেকে অনেক সুন্দর। ফর্সা। চুল লাল।’

‘তারা নানা ধরনের খাবার খায়। ফল খায়। আবার ব্যাঙ, সাপও খায়। আমার মতো কালো নয়। একদম পুতুলের মতো।’

এমন গল্পে শর্টফিল্ম তৈরির কারণ হিসেবে ওসমান ‘ভোগ’কে বলেন, ‘আমি সব সময় বিচ্ছিন্ন শ্রমের বিষয়ে কথা বলেছি। ভেবেছি সব সংস্কৃতির বিষয়ে কথা বলা দরকার। কীভাবে একটি পোশাক এক জায়গায় তৈরি হওয়ার পর আরেক জায়গায় চলে যাচ্ছে, কীভাবে সেটি সেখানে অন্যরকম হয়ে যাচ্ছে-এটি বুঝতে চেয়েছি।’

ওসমান জানান, লন্ডনে বসে তার মাথায় আইডিয়াটি আসে। একটি দাতব্য সংস্থার দোকান থেকে পোশাকগুলো কেনেন। তারপর ইকো এজ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে সুটকেসভরা পোশাক নিয়ে বাংলাদেশে রওনা দেন।

‘আমি সুটকেস খুলে পোশাকগুলো তাদের হাতে দেই। এরপর তারা নানা ধরনের মন্তব্য করতে থাকে। উচ্চ শ্রেণির মানুষের জন্য পোশাকগুলো তৈরি করতে পেরে তারা নিজেদের গর্বিত ভাবেন।’

ওসমান বুঝতে পারেন, ‘পোশাকগুলো যারা ব্যবহার করেন, কর্মীরা সত্যিকার অর্থে তাদের চেনেন না। শুধু জানেন কাজ শেষ হলে এগুলো জাহাজে করে ভিনদেশে চলে যায়…।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত