ইউনাইটেড হাসপাতালে আগুনে ৫ মৃত্যু: তদন্ত প্রতিবেদন হাইকোর্টে

আপডেট : ১৪ জুন ২০২০, ০৮:৪৫ পিএম

রাজধানীর গুলশানে বেসরকারি ইউনাইটেড হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন ইউনিটে আগুনে পুড়ে চিকিৎসাধীন পাঁচজনের মৃত্যুর ঘটনায় রাজউক (রাজধানী উন্নয়ন কর্র্তৃপক্ষ), ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স এবং ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তদন্ত প্রতিবেদন হাইকোর্টে দাখিল করা হয়েছে।

রবিবার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা প্রতিবেদনগুলো বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চে উপস্থাপন করেন। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত  তালুকদার দেশ রূপান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন। 

তিনটি সরকারি সংস্থার প্রতিবেদনেই ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ইউনাইটেড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতি, উদাসিনতা ও অবহেলার চিত্র উঠে এসেছে।

এসব প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউনাইটেড হাসপাতালে অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জামাদির বেশিরভাগই ছিল মেয়াদোত্তীর্ণ ও অকেজো।

২২ জুন এর শুনানির জন্য ধার্য রেখেছে হাইকোর্টের এই বেঞ্চ। এ ঘটনায় দুই আইনজীবীর করা রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে ২ জুন এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। 

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের দাখিলকৃত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউনাইটেড হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন সেন্টারে অগ্নিদুর্ঘটনা চলাকালে আগুন নেভাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিলে রোগীদের জীবন বাঁচান সম্ভব হতো। এ ছাড়া ইমার্জেন্সি অ্যালার্ম বাজানো, রোগী অপসারণ ও হাসপাতালের অগ্নিনির্বাপণ দলকে জরুরি উপস্থিত হতে অনুরোধ করলে অগ্নিকাণ্ড ও রোগীদের মৃত্যু রোধ করা সম্ভব হতো। 

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, এসি থেকে আগুনের স্ফুলিঙ্গ নির্গত হতে দেখেও কর্মরত উপস্থিত ব্যক্তিদের আগুন নেভানোর ব্যাপারে ফায়ার এক্সটিংগুইশার (অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র) বা অন্যান্য আগুন নেভানোর সরঞ্জামাদি ব্যবহারে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। আর স্পর্শকাতর এলাকায় সেবা প্রদানে পর্যাপ্ত অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়া এ ধরনের আইসোলেশন সেন্টার নির্মাণ ঠিক হয়নি।

অস্থায়ী সরঞ্জামাদি দ্বারা তৈরি না করে স্থায়ী অথবা অগ্নি প্রতিরোধযোগ্য নির্মাণসামগ্রী দ্বারা এ ধরনের আইসোলেশন সেন্টার তৈরি করা উচিত ছিল বলে ফায়ার সার্ভিসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। 

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অমিত তালকুদার জানান, রাজউকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউনাইটেড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আইসোলেশন সেন্টার নির্মাণ করলেও এ ধরনের স্থাপনা নির্মাণের ক্ষেত্রে বিল্ডিং কোড অনুসরণ করা হয়নি। এ বিষয়ে রাজউকের কোনো ধরনের অনুমোদন তারা নেয়নি। 

তিনি বলেন, ডিএমপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অগ্নিকাণ্ড ও তা প্রতিরোধে ইউনাইটেড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ও অবহেলা ছিল।
২৭ মে রাতে গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালের করোনাভাইরাসের রোগীদের জন্য স্থাপিত আইসোলেশন ইউনিটে আগুন লাগে। আধা ঘণ্টার মধ্যে ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও পাঁচজন রোগী মারা যান। এর মধ্যে তিনজন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়। অগ্নিকাণ্ডের পর হাসপাতালে নামমাত্র অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থাসহ নানা অব্যবস্থাপনার চিত্র উঠে আসে।

ইউনাইটেড হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল, নিহতদের পরিবারকে পাঁচ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ এবং ঘটনা তদন্তে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে কমিটি গঠনের নির্দেশনা চেয়ে গত ৩০ মে রিট আবেদনটি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী নিয়াজ মুহাম্মদ মাহবুব ও শাহিদা সুলতানা শিলা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত