বেশ কিছুদিন থেকে অসুস্থ স্ত্রী আকতারা বেগম (৩০)। সকালে স্ত্রীর জন্য ওষুধ কেনার কথা বলে বাড়ি থেকে চার্জার ভ্যান নিয়ে বের হন তিন। সকাল গড়িয়ে দুপুর, দুপুর গড়িয়ে বিকেল। অসুস্থ স্ত্রী আর একমাত্র মেয়ে (১১) বাবার পথ চেয়ে বসে থাকেন।
এক সময় সন্ধ্যা গড়িয়ে নামে রাত। তবুও বাসায় ফেররেন না মিজানুর। চিন্তায় দিশেহারা হয়ে পড়েন স্ত্রী-কন্যা। এদিক সেদিক খবর নিয়েও মেলে না মিজানুরের খোঁজ।
অবশেষে পরের দিন বিকেলে খবর আসে বাড়ির কিছু দূরেই গলা কাটা এক ব্যক্তির লাশ পড়ে রয়েছে। খবর শুনে আঁতকে ওঠে আকতারার বুক। পরিবারের লোকজন লাশ দেখে এসে খবর দেয় মিজানুরকে গলা কেটে হত্যা করে নিয়ে দুর্বৃত্তরা লুট করে নিয়ে গেছে চার্জার ভ্যানটি।
মর্মান্তিক এ ঘটনাটি ঘটেছে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার পুলবান্ধা গ্রামে।
নিহত মিজানুর পার্শ্ববর্তী ফুলবাড়ী উপজেলার তেতুলিয়া গ্রামের আব্দুল মান্নানের ছেলে।
নিহতের পরিবারের বরাত দিয়ে নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অশোক কুমার চৌহান জানান, গতকাল সোমবার সকালে স্ত্রীর জন্য ঔষুধ কেনার কথা বলে বাড়ি থেকে ভ্যান নিয়ে বের হয়েছিলেন মিজানুর। পরে মঙ্গলবার বিকেলে নবাবগঞ্জের পুলবান্ধা এলাকায় একটি মাঠের জঙ্গলে মিজানুরের গলা কাটা লাশ দেখতে পায় এক ব্যক্তি। বিষয়টি পুলিশকে জানালে লাশ উদ্ধার করা হয়। দুর্বৃত্তরা চার্জারভ্যানটি চুরি করতেই মিজানুরকে হত্যা করেছে বলে জানান ওসি অশোক কুমার চৌহান।
বিরামপুর সার্কেলের এএসপি মিথুন সরকার জানান, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার হত্যা মামলা করবেন।
