ধামরাইয়ে মাইকিং করে লকডাউন ঘোষনার পর সিভিল সার্জনের স্থগিত

আপডেট : ২০ জুন ২০২০, ০৭:২৫ পিএম

ঢাকার ধামরাইয়ে মাইকিং করে লকডাউন ঘোষণার পর সিভিল সার্জনের অনুমোদন না থাকায় তা স্থগিত করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে এক আদেশে লকডাউন স্থগিতের নির্দেশ দেওয়া হলে তা কার্যকর করেন উপজেলা প্রশাসন এবং করোনা প্রতিরোধ কমিটি।

লকডাউন স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করে ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সামিউল হক বলেন, ধামরাই উপজেলা রেড জোনের ভেতরে থাকায় লকডাউন করা হলেও সরকারি নির্দেশনার কারণে তা স্থগিত করা হয়েছে। এই ঘোষণা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বলবৎ থাকবে।

জানা যায়, সরকারি প্রজ্ঞাপণ মতে লকডাউনের ক্ষেত্রে সিভিল সার্জনের আদেশ প্রয়োজন। কিন্তু ধামরাই উপজেলা প্রশাসন সে আইন ভঙ্গ করে লকডাউন জারি করায় পরে তাদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে। এর আগে একটি পৌরসভা ও ৬ টি ইউনিয়নকে রেড জোন সনাক্ত করে উপজেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটি। এতে উপস্থিত ছিলেন, পৌর মেয়র গোলাম কবির, উপজেলা নির্বাহী অফিসার সামিউল হক, সহকারী কমিশনার (ভূমি) অন্তরা হালদার।

পরে চিহ্নিত এলাকাগুলোতে শনিবার থেকে আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত ধামরাই পৌরসভা, আমতা, সানোড়া, সূতিপাড়া, সোমভাগ, ধামরাই সদর ও ভাড়ারিয়া ইউনিয়নের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেয় উপজেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটি। সেই অনুযায়ী লকডাউনের প্রচারণা চালিয়ে রেড জোনের অন্তর্ভুক্ত এলাকাগুলোতে মাইকিং করান পৌর মেয়র গোলাম কবির।

ধামরাই পৌর মেয়র গোলাম কবির বলেন, ধামরাই পৌর এলাকাসহ ৬ টি ইউনিয়নে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় জরুরী এক সভায় এসব এলাকাগুলোকে রেড জোন হিসেবে ঘোষণা এবং লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ জন্য শুক্রবার সকাল থেকে সংশ্লিষ্ঠ এলাকায় মাইকিং করে দোকানপাটসহ জনসাধারণের চলাচলে বিধিনিষেধেরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু সিভিল সার্জনের অনুমোদন না পাওয়ায় রাতে লকডাউন স্থগিত করা হয়েছে।

ঢাকা জেলার সিভিল সার্জন ডা. মইনুল আহসান বলেন, ধামরাই পৌরসভাসহ ৬টি ইউনিয়ন রেড জোন এলাকা নির্ধারণ করা হয়, যা স্বাস্থ্য বিভাগের দাপ্তরিক কাজ। তবে লকডাউনের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। লকডাউন করতে হলে স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারের সঙ্গে পরামর্শক্রমে সিভিল সার্জন লিখিত আকারে অনুমতি দিলেই লকডাউনের ঘোষণা দিতে পারে স্থানীয় প্রশাসন।

এদিকে শনিবার থেকে টানা ২১ দিন লকডাউনের ঘোষণা করায় অধিকাংশ পৌরবাসী অন্তত সাতদিনের জন্য চাল, ডাল, আলু, পিয়াজ, তরকারি, আটা, তেল, সাবানসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য মজুদ করেছে। যেকারনে শুক্রবার ধামরাই বাজারে তিলধারনের ঠাই ছিল না। এতে অনেককে অতিরিক্ত মূল্য দিয়েও প্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত