খাদ্যসহায়তার পরিমাণ বৃদ্ধিসহ সময়মতো প্রদানের দাবি জেলেদের

আপডেট : ২২ জুন ২০২০, ০৩:৩৮ পিএম

সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনে গভীর সমুদ্রে মাছ শিকারে না গেলেও পটুয়াখালীর উপকূলীয় এলাকার অর্ধ লক্ষাধিক জেলের ভাগ্যে এখনো জোটেনি প্রণোদনার বিশেষ খাদ্যসহায়তা। এতে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন এসব গভীর সমুদ্রগামী জেলেরা।

মাছ শিকারে গোপনে সমুদ্রগামী হচ্ছে অনেক জেলে। বন্দি হচ্ছে আইনের বেড়াজালে। এ অবস্থায় নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ খাদ্য সহায়তার পরিমাণ বৃদ্ধি এবং সময়মতো প্রদানের দাবি জেলেসহ ফিশিং ট্রলার মালিকদের।   

সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ, বাধাহীন প্রজননের জন্য ২০ মে থেকে ২৩ জুলাই পর্যন্ত বঙ্গোপসাগরে ৬৫ দিনের জন্য সকল প্রকার মাছ ধরা বন্ধ রাখার নিষেধাজ্ঞা অরোপ করেছে মৎস্য বিভাগ।

এ সময়ে পটুয়াখালীর উপকূলীয় এলাকার প্রায় ৬৪ হাজার জেলেদের জন্য বিশেষ খাদ্য সহায়তার ৫৬ কেজি করে চাল প্রদানের আশ্বাস দেয় মৎস্য বিভাগ। কিন্তু নিষেধাজ্ঞার অর্ধেকটা সময় পেরিয়ে গেলেও অধিকাংশ জেলেরা এখনো পায়নি এ খাদ্য সহায়তা।

ফলে কর্মহীনতায় পরিবার-পরিজন নিয়ে কাটাচ্ছে মানবেতর জীবন। এমন দুর্দশার সুযোগ নিয়ে কিছু সুবিধাবাদী ব্যবসায়ী জেলেদের উৎসাহিত করছে সাগরে মাছ শিকার করতে। ফলে পরিবারের খাদ্যের যোগান দিতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গোপনে মৎস্য শিকারে সমুদ্র যাচ্ছে অনেক জেলে।

এতে আইনের বেড়াজালে বন্দি হচ্ছে অনেক জেলে। ভ্রাম্যমাণ আদালতে গুনতে হচ্ছে জরিমানা। আবার অনেক সময় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে ঘটছে নানা অপ্রীতিকর ঘটনা। এতে ব্যর্থতায় পর্যবসিত হচ্ছে সরকারের সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ ও বাঁধাহীন প্রজননের উদ্যোগ।

অলীপুর-কুয়াকাটা ফিশিং ট্রলার মাঝি সমিতির সভাপতি নুরু মাঝি বলেন, মাছ ধরা ছাড়া অন্য কোনো কাজ জানা নেই জেলেদের।

তাছাড়া মাত্র দু’এক মাসের জন্য কাজেও এদের কেউ নিতে চায় না। ফলে বাড়ীতে অলস সময় কাটাতে হয়। যাদের সামান্য পুঁজি বা সঞ্চয় থাকে তা দিয়ে পরিবারের ভরণ-পোষণ বহন করতে পারলেও অধিকাংশ জেলে পরিবার দু-এক বেলা কিংবা আধাপেট খেয়ে দিন পার করেন।  

আলীপুর-কুয়াকাটা মৎস্য ব্যবসায়ী ও ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি আনসার উদ্দিন মোল্লা বলেন, ইলিশ মৌসুমের শুরতে ৬৫ দিনের অবরোধের ফলে সাগরে বাড়ছে মাছের উৎপাদন। যার সুফল ভোগ করছে জেলেসহ ব্যবসায়ীরা। কিন্তু এ সময়ে প্রদেয় প্রণোদনা বাড়ানো উচিৎ। অবরোধ শুরু হওয়ার কয়েকদিন পরেই তা প্রদান করা হলে জেলেদের খুব উপকারে আসে। পাশাপাশি সাগরে নিয়মিত টহল আরো বাড়ানো দরকার।

পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোল্লা এমদাদুল্লাহ জানান, জেলায় নিবন্ধিত মোট ৬৩,৮৪৮ জন ইলিশ শিকারি জেলের মধ্যে ৪৫ হাজার ৬৪২ জন পাচ্ছে অবরোধকালীন সরকারি প্রণোদনা। ইতিমধ্যে এ খাদ্য সহায়তা প্রদান শুরু হয়েছে। দ্রুততম সময়ে সকলের কাছে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত