২০২০-২১ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য থোক বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে ‘বাংলাদেশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি’। গতকাল সোমবার সমিতির সভাপতি শেখ কবির হোসেনের পাঠানো এক বাজেট প্রতিক্রিয়ায় এ দাবি জানানো হয়।
বিশ্বব্যাপী মহামারীর সময়ে একটি আশাবাদী বাজেট প্রণয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বাজেট প্রতিক্রিয়ায় বলা হয়, গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য ৫ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ করেছেন
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বাজেটে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ মিলিয়ে মোট ৬৬ হাজার ৪০১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ শিক্ষা খাতে এ বছরে বরাদ্দ ১১.৬৯ শতাংশ, যা গত বছরের তুলনায় ০.০১ শতাংশ বেশি। এছাড়াও বাজেটে অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে এক লাখ তিন হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজও রয়েছে।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির প্রতিক্রিয়ায় আরও বলা হয়, বিশ্বজুড়ে মহামারীর প্রকোপ সৃষ্টিকারী করোনাভাইরাসের কারণে প্রতিনিয়ত বদলে যাচ্ছে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট। এ কারণে ব্যবসায়ের গতিবদল হচ্ছে, বদলে যাচ্ছে শিক্ষাব্যবস্থাও। সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও এখন অনলাইনে চলছে শিক্ষা কার্যক্রম। বিভিন্ন স্কুল-কলেজের পাশাপাশি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও গত মার্চের শেষ দিক থেকে অনলাইনে পাঠদানে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। তবে বাজেটে মোবাইল কলের ওপর সম্পূরক শুল্ক ৫ শতাংশ বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব কার্যকর করা হলে তা মোবাইল ইন্টারনেটের জন্যও প্রযোজ্য হয়েছে। এই প্রস্তাব অনলাইনে পাঠগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের ওপর হঠাৎ করেই নতুন বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। এ কারণে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে শিক্ষার্থীদের জন্য ওই শুল্ক মওকুফসহ দেশের সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের স্বার্থে কয়েকটি প্রস্তাব রাখা হয়। সেগুলো হলো :
১. মোবাইল কলের ওপর সম্পূরক শুল্ক ৫ শতাংশ বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য এই শুল্ক পুরোপুরিভাবে প্রত্যাহার। একইসঙ্গে সব সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে সব ক্যাম্পাসে উচ্চগতির /উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ইন্টারনেট সেবা বিনামূল্যে দেওয়া।
২. শিক্ষার্থীদের অতি সাশ্রয়ী মূল্যে ইন্টারনেটের ‘বিশেষ শিক্ষা প্যাকেজ’ এর জন্য ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য মন্ত্রণালয় বরাবর অনুরোধ করা হয়েছে। বিষয়টি বিবেচনা করা।
৩. বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনভাতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে, প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়কে নির্দিষ্ট হারে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করার লক্ষ্যে ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেটে থোক বরাদ্দ রাখা। এর মাধ্যমে সাময়িক অর্থ ঘাটতির মুখে সবার বেতনভাতার সুরক্ষা সম্ভব হবে। এজন্য অর্থমন্ত্রী বরাবর আবেদন করা হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে তা বিবেচনা করা।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমিতি বলেছে, বৈশ্বিক মহামারীর সময়ে প্রধানমন্ত্রীর সাহসী নেতৃত্বে দেশ সংকট কাটিয়ে উঠবে এ বিষয়ে তাদের দৃঢ় বিশ্বাস রয়েছে। তবে মনে রাখতে হবে, করোনা-পরবর্তী বিশ্বে একমাত্র দক্ষ জনবলই ঘুরে দাঁড়াতে ভূমিকা রাখবে। সে জায়গায় যেন দেশ পিছিয়ে না পড়ে সেজন্য জননিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও ব্যবসা খাতের পাশাপাশি শিক্ষা ও গবেষণা খাতেও সমান নজর দেওয়া জরুরি।
