চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ছে। প্রথম দিকে চট্টগ্রাম শহর থেকে আসা এক ব্যক্তির দেহে করোনা শনাক্ত হলেও এখন উপজেলা ছেড়ে কোথাও যাননি এমন মানুষেরও করোনা শনাক্ত হচ্ছে। কিন্তু মানুষের মধ্যে কমছে সচেতনতা। মানা হচ্ছে না সামাজিক দূরত্ব।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ জোবায়ের আহমেদ গতকাল সোমবার দেশ রূপান্তরকে জানান, সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় উপজেলায় নতুন করে আরও ৯ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে কাফকো সার কারখানার তিনজন আছেন। এ নিয়ে উপজেলায় করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৯৩। এর মধ্যে মারা গেছেন একজন ও সুস্থ হয়েছেন ২৯ জন।
এদিকে উপজেলায় করোনায় আক্রান্তদের মধ্যে ২০ জন রয়েছেন কাফকো সার কারখানার কর্মকর্তা-কর্মচারী। বাকিরা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বাসিন্দা। তাদের অনেকেই চট্টগ্রাম শহরে বসবাস করেন। ইতিমধ্যে এই উপজেলাকে রেড জোন ঘোষণা করা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার কোথাও মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। যে যার মতো করে চলাফেরা করছেন। উপজেলা প্রশাসন স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে অভিযান চালালেও তেমন সুফল আসছে না। অভিযান চলাকালে মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মানলেও অভিযান শেষ হলেই তাদের মধ্যে অসতর্কতা দেখা যায়। গ্রামীণ হাট-বাজারগুলোতে স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই বললেই চলে। একজনকে আরেকজনের সঙ্গে গা ঘেঁষে কেনাকাটা করতে দেখা যায়। চায়ের দোকানে জমে আড্ডা।
গত ১৫ এপ্রিল উপজেলায় প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। উপজেলার ওষখাইন গ্রামের ৪৮ বছরের ওই ব্যক্তি চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিক ছিলেন। কিন্তু এখন অনেকেই শনাক্ত হচ্ছেন, যারা উপজেলা থেকে অন্য কোথাও যাননি। তারা স্থানীয়ভাবেই আক্রান্ত হচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। করোনার সংক্রমণ দিন দিন বাড়লেও মানুষের মধ্যে কমছে সচেতনতা। ঘরের বাইরে লোকজন মাস্ক পরলেও অনেকেই নাক-মুখের নিচে নামিয়ে রাখছেন। অনেকে গাদাগাদি করে অটোরিকশায় চলাফেরা করছেন। উপজেলার হাটবাজারগুলোতে এখন ভিড় থাকছে। আর গ্রামের মোড়ে মোড়ে জটলা করা মানুষের মধ্যে সচেতনতা আরও কম। মাস্ক ছাড়াই ঘুরে বেড়াচ্ছে অনেকে।
ইউএনও বলেন, মাস্ক না পরাসহ অন্যান্য অপরাধ নিয়ন্ত্রণে উপজেলাজুড়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত তৎপর রয়েছে। সন্ধ্যা ৬টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত জরুরি সেবা ছাড়া দোকানপাট বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে জরিমানাও করা হচ্ছে। সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
