কিশোরগঞ্জের ভৈরবের আগানগর ইউনিয়নের গকুলনগর বাজার থেকে কালিকাপুর সড়ক নির্মাণের পর দুই বছর না যেতেই ভেঙে গেছে। এই রাস্তা দিয়ে ওই ইউনিয়নের রাধানগর, কালিকাপুর, ওরসপুর, নবীপুর, জগমোহনপুর ও লুন্দিয়া গ্রামের প্রায় ২০/২৫ হাজার মানুষ প্রতিদিন যাতায়াতসহ রিকশা-অটোরিকশা, ঠেলাসহ ইত্যাদি চলাচল করতো। গত সপ্তাহের প্রবল বৃষ্টিতে রাস্তাটি ভেঙে গেলে যানবাহনসহ মানুষের চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে করে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এলাকার লোকজন।
তাদের অভিযোগ, রাস্তটি নির্মাণের সময় ঠিকাদার নিম্নমানের কাজ করায় অল্পদিনেই ভাঙনের মুখে পড়েছে। প্রকল্পের কাজে ঠিকাদার ব্যাপক দুর্নীতি করেছে বলে অভিযোগ করে তারা আরও জানান, রাস্তার কাজে সিডিউল অনুযায়ী রড-সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়নি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক জুবায়ের আলম দানিছ।
তিনি পাশের ইউনিয়ন শিমূলকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। তিনি প্রভাব খাটিয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইউসুফকে ম্যানেজ করেই নিম্নমানের কাজ করেন। তারা বিষয়টির তদন্ত এবং যাতায়াতের সুবিধার্থে দ্রুত রাস্তাটি মেরামতের দাবি জানিয়েছেন।
আগানগর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের সদস্য মো. দানিছ মিয়া জানান, প্রবল বৃষ্টিতে রাস্তা ভেঙে গেছে। রাস্তাটি ভেঙে যাওয়ার পর দেখা যায় রাস্তার ভেতরে কোনো রড নেই। সিমেন্ট-কংক্রিটের পরিমাণও কম ছিলো বলে তার ধারণা। যার কারণে এতো অল্প সময়ে রাস্তাটি ভেঙে গেছে।
একই অভিযোগ করে স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. হাবিব মিয়া জানান, রাস্তার কাজে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। সিডিউল অনুযায়ী রড-সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়নি। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক জুবায়ের আলম দানিছ প্রভাবলালী হওয়ায় কাজের সময় কেউ তার সামনে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করার সাহস পায়নি।
এইসব অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে ঠিকাদার জুবায়ের আলম দানিছ বলেন, কাজ করেছি দুই বছর আগে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বৃষ্টিতে রাস্তা ভেঙে গেছে। এতে আমার কি করার আছে? নিম্নমানের কাজ হয়েছে এই অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন। এলাকার প্রতিপক্ষরা অপপ্রচার করছে বলে তিনি দাবি করেন।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, গত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এই দেড় কিলোমিটার রাস্তাটি নির্মাণ করা হয়। যার প্রকল্প ব্যয় ছিল ৮০ লাখ টাকা। এলজিডিই কর্তৃপক্ষ এলাকাবাসীর প্রয়োজনে রাস্তাটি নির্মাণ করে। ইভান এন্টারপ্রাইজ নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রাস্তাটি নির্মাণ করে। প্রকল্পের কাজ ২০১৮ সালের মাঝামাঝির দিকে শেষ হয়।
উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইউসুফ জানান, প্রবল বৃষ্টিতে রাস্তাটি ভেঙে গেছে। ইতোমধ্যে রাস্তাটি পরিদর্শন করে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন।
সপ্তাহ খানেকের মধ্যে মাটি ভরাট করে রাস্তাটি পুনঃমেরামত করা হবে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিম্নমানের কাজ করেছেন- এটি অস্বীকার করে তিনি বলেন, বৃষ্টিপাতে যেকোনো সময় যেকোনো রাস্তা ভেঙে যেতে পারে।
