আক্রান্ত চিকিৎসক রোগী দেখছেন ক্লিনিকে

আপডেট : ২৬ জুন ২০২০, ০৬:৫০ এএম

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েও একটি বেসরকারি ক্লিনিকে বসে নিয়মিত রোগী দেখেছেন নারায়ণগঞ্জের খানপুর ৩শ শয্যা করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালের গাইনি বিভাগের প্রধান ডা. জাহাঙ্গীর আলম। গত ৬ জুন করোনা শনাক্ত হওয়ার ৮-৯ দিন পর থেকেই তিনি তথ্য গোপন করে শহরের প্রাইম জেনারেল হাসপাতালে নিয়মিত রোগী দেখেছেন, এমনকি কয়েকটি অস্ত্রোপচারও করেছেন বলে জানা গেছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর গতকাল বৃহস্পতিবার ওই ক্লিনিকে নতুন করে রোগী ভর্তির ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

জানা গেছে, চলতি মাসের শুরুতে উপসর্গ নিয়ে করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দেন ডা. জাহাঙ্গীর আলম। গত ৬ জুন পরীক্ষার ফলাফলে তিনি করোনা পজিটিভ শনাক্ত হন। হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ তাকে বাড়িতে আইসোলেশনে থাকার পরামর্শ দেয়।  পরবর্তীকালে গত ২৩ জুন প্রথম ফলোআপ রিপোর্টেও তিনি করোনা পজিটিভ হন। নিয়ম অনুযায়ী বাড়িতে আইসোলেশনে থাকার কথা থাকলেও শহরের প্রাইম জেনারেল হাসপাতালে রোগী দেখতেন তিনি। তার করোনায় আক্রান্তের বিষয়টি জানার পর ওই হাসপাতালেরই একজন কর্মচারী স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের জানায়। এরপর গত বুধবারও জাহাঙ্গীর আলমকে বেসরকারি ওই ক্লিনিকের ২০২ নাম্বার কক্ষে রোগীর সঙ্গে বসে কথা বলতে দেখা যায়।

এ ব্যাপারে গতকাল বৃহস্পতিবার করোনায় আক্রান্ত ডা. জাহাঙ্গীরের মোবাইলে ফোন করে বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গত ৬ জুন করোনা শনাক্ত হওয়ার পর থেকে বাড়িতেই ছিলাম। শারীরিক অবস্থা সুস্থ হওয়াতে হাসপাতালে এসেছি। তবে রোগী দেখতে নয়, স্ত্রীকে নিতে এসেছিলাম।’

তার স্ত্রীও প্রাইম জেনারেল হাসপাতালের গাইনি চিকিৎসক বলে জানান ডা. জাহাঙ্গীর। কিন্তু করোনা নেগেটিভ রিপোর্ট না পেয়েই স্ত্রীকে নিতে হাসপাতালে আসা ঠিক হয়েছে কি না এমন প্রশ্ন করলে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন তিনি।

করোনা আক্রান্ত চিকিৎসককে দিয়ে রোগী দেখানোর অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রাইম জেনারেল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ডা. আহসানুল কবির দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিকেল পৌনে ৪টার দিকে হাসপাতালে তিনি (ডা. জাহাঙ্গীর) একটি ইনজেকশন নিতে এসেছিলেন। এ সময় একজন রোগী এলে দূর থেকেই তার কাগজপত্র দেখেছেন।’ গত কয়েক দিন ধরে ডা. জাহাঙ্গীরের ওই হাসপাতালে রোগী দেখার অভিযোগ অস্বীকার করেন হাসপাতালের এমডি।

খানপুর ৩শ’ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. গৌতম রায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এটা একজন ডাক্তারের কাছে কখনই কাম্য নয়। আমি বিষয়টি জানতাম না। আমি জানি তিনি (ডা. জাহাঙ্গীর) বাড়িতে আইসোলেশনে আছেন। এ বিষয়ে তার কাছ থেকে ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।’

অন্যদিকে জেলা সিভিল সার্জন ডা. ইমতিয়াজ আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘করোনার এই মহামারীতে সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে যখন সারা বিশ্বে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা প্রশংসিত, ঠিক তখন এই চিকিৎসকের এমন কর্মকা- অবশ্যই গর্হিত ও দ-নীয় অপরাধ।’

তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনা জানার পরপরই আমরা ওই বেসরকারি হাসপাতালে নতুন রোগী ভর্তির ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছি। পাশাপাশি ডা. জাহাঙ্গীর এক দিন যে যে রোগী দেখেছেন বা যাদের সংস্পর্শে এসেছেন তাদের ব্যাপারেও খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত