কমলগঞ্জে বাঁধ ভেঙে ১৫টি গ্রাম তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা

আপডেট : ২৬ জুন ২০২০, ০৭:৩৪ পিএম

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় দীর্ঘ ৫৫ কি.মি. দৈর্ঘ্যের ধলাই নদী প্রতিরক্ষা বাঁধের অসংখ্য স্থান ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। তবে সম্প্রতি মাধবপুর ইউপির ধলাইরপার গ্রাম এলাকায় প্রতিরক্ষা বাঁধে ভাঙন শুরু হয়েছে।

ধলাই নদীর পানি এখন বিপদ সীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও আষাঢ়ের টানা বৃষ্টি শুরু হলে পানি বৃদ্ধি পেলে ধলাইরপারের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বাঁধ ভেঙে উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়ন, কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়ন ও কমলগঞ্জ পৌরসভার ১৫টি গ্রাম, ফসলি জমি, রাস্তাঘাট ও বসতবাড়ি তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ধলাইরপার গ্রাম এলাকা ঘুরে দেখা যায় প্রতিরক্ষা বাঁধের ভাঙনে এ গ্রামের বেশ কিছু ফসলি জমি, গাছপালা ও বসত ঘর নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে।

গ্রামবাসী আব্দুল হান্নানসহ অনেকেই বলেন, এখনই যদি প্রতিরক্ষা বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণস্থান মেরামত না করা হয় তা হলে আসন্ন বর্ষায় টানা বৃষ্টিপাত শুরু হলে আর উজানের ভারতীয় পাহাড়ি ঢলের পানি নামতে শুরু করলে ধলাই নদীর পানি বিপদ সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হবে।

মাধবপুর ইউপি চেয়ারম্যান পুষ্প কুমার কানু বলেন, এ ইউনিয়নের শিমুলতলা গ্রাম এলাকার প্রতিরক্ষা বাঁধ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। পানি উন্নয়ন বোর্ড সেটি মেরামত করছেন। এখন ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে ধলাইরপার এলাকা। তিনি মনে করেন এ স্থানের প্রতিরক্ষা বাঁধ ভাঙলে তার ইউনিয়নের কম করে হলেও ৫টি গ্রামের অনেক ক্ষতি হবে।

কমলগঞ্জ সদর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হান্নান বলেন, মাধবপুর ইউনিয়নের ধলাইরপার এলাকার ধলাই প্রতিরক্ষা বাঁধ ভাঙলে তার ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

কমলগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মো. জুয়েল আহমদ বলেন, ধলাইরপারের প্রতিরক্ষা বাঁধ ভাঙলে তার পৌরসভার কমপক্ষে ৫ থেকে ৭টি গ্রামের ব্যাপক ক্ষতি হবে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড মৌলভীবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী নরেন্দ্র শঙ্কর চক্রবর্তী জানান, মাধবপুর ইউনিয়নের শিমুলতলা এলাকা ছিল বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। সে স্থানের মেরামত কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। ধলাইরপার এলাকা পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষে পরিদর্শন করা হয়েছে। আসন্ন বর্ষার টানা বৃষ্টির কথা ভেবে সেখানের ঝুঁকিপূর্ণ প্রতিরক্ষা বাঁধ এলাকার মেরামত কাজ দ্রুতই শুরু হয়ে যাবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত