আমন বীজের সিন্ডিকেট করে কৃত্রিম সংকট তৈরি, কৃষকরা বিপাকে

আপডেট : ২৬ জুন ২০২০, ০৯:২১ পিএম

মৌসুমের শুরুতেই আমন বীজের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে পটুয়াখালীর কলাপাড়ায়। নির্ধারিত ডিলারের দোকানে ঘুরেও কৃষকদের ভাগ্যে জুটছে না বিএডিসির বীজধান। হতাশা নিয়ে খালি হাতে ফিরছে কৃষক। এতে কৃষকরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। যথাসময়ে আমনের বীজতলা তৈরি নিয়ে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের শঙ্কা।

অনেক কৃষকের অভিযোগ, মুনাফা লাভের আশায় সিন্ডিকেট করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে। ডিলারদের দাবি, সংকট সৃষ্টির মাধ্যমে এক শ্রেণির অখ্যাত কোম্পানির নিম্নমানের মিশ্রজাতের ধানের বীজ বাজারজাতের সুযোগ তৈরি করে দেয়া হচ্ছে। অবশ্য কৃষি কর্মকর্তা বলেছেন, রবিবার আরও কিছু বীজধান ডিলাররা সংগ্রহ করবে। তখন কৃষকরা বীজধান সংগ্রহ করতে পারবেন।

কলাপাড়ায় বিএডিসির বীজ ধান বিক্রির জন্য ডিলার রয়েছেন শহরের গৌতম হাওলাদার, আলীপুরের শহিদ মুসল্লি, মহিপুরের সোহাগ ও ধানখালীর একজন। তারা যে পরিমাণ বীজধান পটুয়াখালী থেকে উত্তোলন করেছিলেন তা বৃহস্পতিবার দুপুরে বিক্রি শেষ হয়ে গেছে। এখন বিএডিসির কোন বীজধান বাজারে নেই। ফলে বীজের সংকট প্রকট হয়ে দেখা দিয়েছে।

কৃষকরা আরও জানান, একমাত্র আমন মৌসুমে সকল জমিতে ধানের আবাদ করে উপকূলীয় এ জনপদের সকল কৃষক। অধিকাংশ জমিতে তারা সাধারণত ব্রী-৪৯, ২৩, ১১, ৫১, ৫২, ৩২ ও ২২ জাত ছাড়াও গুটি স্বর্ণা জাতের ধানের আবাদ করেন। এছাড়া নিচু জমিতে স্থানীয় জাত মোটা কুটি অগ্রানী, ক্যারেঙ্গাল মোটা, মোথা মোটা জাতের ধানের আবাদ করেন।

পশ্চিম সোনাতলা গ্রামের বড় কৃষক হারুন মাঝি জানান, প্রায় ৯০ বিঘা জমির আমন আবাদের জন্য ২১০ কেজি বীজ ধানের প্রয়োজন। ব্রি-৪৯, ২৩ এবং গুটি স্বর্ণা জাতের বীজ ধান প্রয়োজন। বিএডিসির ১০কেজির বীজ ধানের বস্তা তিন শ টাকায় বিক্রির কথা, কিন্তু বিক্রি করছে ৩৫০ টাকায়। তাও ডিলারের কাছে গিয়ে মিলছে না। বাইরের কোম্পানির বীজ ধান কিনতে হয় কৃষককে ৮০-৯০ টাকা কেজিতে। তাও ভেজাল। সোনাতলা গ্রামের বেল্লাল হোসেন, হোসেনপুর গ্রামের সুলতান হাওলাদার একই কথা জানিয়ে বলেন, বীজতলা তৈরির উপযুক্ত সময়ে বীজ ধান সংকটে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন অনেক কৃষক।

উপকূলীয় জনকল্যাণ সংঘের সভাপতি জয়নাল আবেদীন জানান, বুলবুলের কারণে কোন কৃষক বীজ ধান সংগ্রহ করতে পারেনি। তাই এখন সকল কৃষকের বীজধানের প্রয়োজন রয়েছে। ৮০-৯০ টাকা কেজি দরে বীজ ধান কিনে বীজতলা তৈরি করতে হবে।

কৃষি অফিসের তথ্যানুযায়ী, উপজেলায় আমনের আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ প্রায় ৮৬ হাজার একর। এ জন্য প্রয়োজন ৮৬০ টন বীজ ধান। কিন্তু বিএডিসি থেকে থেকে সর্বোচ্চ ৪০ ভাগ সরবরাহ করা হলেও বাকি ৬০ ভাগ কৃষককে বাইরে থেকে চড়া মূল্যে কিনতে হচ্ছে। এতেও সংকট কাটছে না। বিএডিসির বীজ ধান যদি প্রান্তিক, বর্গা চাষিদের মধ্যে বিলি-বণ্টন করা যেত তাহলে তারা উপকৃত হতো।

বিএডিসির ডিলার গৌতম চন্দ্র হাওলাদার জানান, প্রায় সাড়ে সাত টন ধানবীজ এনেছেন। এখনও পাওনা রয়েছে আড়াই টন। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার ২২৫ প্যাকেট ধানের বীজ এনেছিলেন। তা মুহূর্তের শেষ হয়ে গেছে। বর্তমানে কয়েক প্যাকেট বীনা জাতের ধানের বীজ রয়েছে। যা কিনে কৃষক প্রতারিত হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান জানান, সরকারিভাবে কৃষককে ন্যায্যমূল্যে বীজধান ক্রয়ের জন্য বিএডিসি চাহিদার ৩০ ভাগ বীজ ধান ফি বছর সরবরাহ করে আসছে। এবছর চাহিদা বাড়িয়ে ৪০ ভাগ করা হয়েছে। কিন্তু গেল বছরের ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের তাণ্ডবে অধিকাংশ ধান চিটা হয়ে গেছে। ফলে শতকরা ৯৫ ভাগ কৃষক স্থানীয়ভাবে বীজধান সংগ্রহ করতে পারেনি। তাই চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত