কোটি কোটি ডলার খরচ করে মাইকেল জ্যাকসন যে রাজকীয় বাড়ি বানিয়েছিলেন, সেটি এখন ধ্বংসের মুখে। ডেইলি মিরর, ডেইলি স্টার, ইয়াহু-সহ একাধিক সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, পপ সংগীতের কিংবদন্তির নেভারল্যান্ড অট্টালিকা অনেক চেষ্টার পরেও বিক্রি হচ্ছে না।
মাইকেলের হঠাৎ মৃত্যুর পর ২০০৯ সাল থেকে বাড়িটি ফাঁকা পড়ে আছে। সে বছর ২৫ জুন মাত্র ৫০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেন এই মহাতারকা। মৃত্যুর আগে এবং পরে তার বিরুদ্ধে একাধিকবার শিশুদের যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। মিরর বলছে, এই কলঙ্কের কারণে বাড়িটি বিক্রি হচ্ছে না।
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার লস অলিভোস এলাকায় ২ হাজার ৭০০ একর এলাকা জুড়ে মাইকেলের এই সম্পত্তি।
বাজারদরে বাড়টি সম্প্রতি ‘বারগেইন প্রাইজের’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। অর্থাৎ আসল দামের চেয়ে বেশি চাওয়া হচ্ছে।
১৯৯৮ সালের দিকে বাড়িটি তৈরি করতে মাইকেল জ্যাকসনের ১৯.৫ মিলিয়ন ডলার থেকে ৩০ মিলিয়ন ডলার খরচ হয়।
এই বাড়িটিতে তিনি ক্যামেরা প্রবেশ করতে দেন ২০০৩ সালে। ওই সময় মার্টিন বশিরের প্রামাণ্যচিত্র ‘লিভিং উইথ মাইকেল জ্যাকসন’-র শুটিং হয়।
চলতি বছরের শুরুতে ‘লিভিং লেভারল্যান্ড: মাইকেল জ্যাকসন অ্যান্ড মি’ প্রামাণ্যচিত্রেও বাড়িটির দৃশ্য দেখানো হয়েছে।
মাইকেলের জীবদ্দশায় তার বাড়িতে অনেক শিশু যাতায়াত করতো। ২০০৩ সালে তার বিরুদ্ধে শিশুদের যৌন নির্যাতন এবং অপহরণের অভিযোগ আনা হয়। ওই সময় তিনি গ্রেপ্তারও হন। পরে পুলিশ একাধিকবার বাড়িটিতে অভিযান চালায়। দুই বছর বাদে অবশ্য সব অভিযোগ থেকে তিনি মুক্তি পান।
বাড়িটি বিক্রির দায়িত্বে আছে লিস্টিং এজেন্সি কম্পাস। চলতি বছরের শুরুতে ক্রেতা চেয়ে বিজ্ঞাপন দেয় তারা।
বাড়িটির মালিক কে: জ্যাকসনের বাড়ির বর্তমান মালিকানার বিস্তারিত তথ্য খুব একটা জানা যায় না। আইনিউজে ২০১৯ সালের মার্চ মাসের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, রিয়েল স্টেট কোম্পানি কলোনি ক্যাপিটাল বাড়িটি মধ্যস্থতাকারী প্রতিষ্ঠান কম্পাসের সাহায্যে বিক্রির চেষ্টা করছে। শিশু নির্যাতনের কেলেঙ্কারির পর মাইকেল ২০০৮ সালে বাড়িটি ত্যাগ করেন। ওই সময় কলোনি ক্যাপিটালের কাছে শেয়ার বিক্রি করে দেন। কোন পক্ষের কতটুকু অংশ সেটি জানা যায়নি। জ্যাকসনের অংশটুকু তার পারিবারিক ট্রাস্টের নামে।
কলোনি ক্যাপিটাল জানিয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তাদের বিক্রির চেষ্টা ব্যর্থ হয়। এরপর মার্চে আরেকবার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু দুদিন বাদে লিভিং নেভারল্যান্ড প্রামাণ্যচিত্রে মাইকেলের শিশু নির্যাতন বিষয়ক নতুন বিতর্ক প্রকাশিত হয়। তখনো বিক্রি আটকে যায়।
রিয়েল স্টেট বিশেষজ্ঞ মাইকেল কার্বেট ইয়াহুকে বলেন, ‘বাড়ির দাম অনেক বেশি চাওয়া হচ্ছে। তবু হয়তো কেউ কেউ কিনতে চাইত, কারণ বাড়িটি মাইকেল জ্যাকসনের। কিন্তু বাড়ি ঘিরে যে নেতিবাচক আলোচনা গণমাধ্যমে আসছে তাতে কেউ আর আগ্রহ পাচ্ছে না।’
‘নিকট ভবিষ্যতে কোম্পানি বাড়িটি বিক্রিতে ব্যর্থ হলে গুড়িয়ে দিতে বাধ্য হবে। এই জায়গায় তারা হয়তো অন্য কিছু ভাববে।’
