রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার মৃগী ইউনিয়নের শিকজান এলাকায় দশম শ্রেণীর এক স্কুল ছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের ঘটনায় একই এলাকার বাসিন্দা কৃষকলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক নূরে আলম সিদ্দিকী হকসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। রবিবার রাতে ওই স্কুল ছাত্রীর বাবা নিজে বাদী হয়ে কালুখালী থানায় এ মামলা দায়ের করেছেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, শিকজান নিয়ামতপুর হাইস্কুলের দশম শ্রেণীর ওই ছাত্রীকে একই এলাকার আলাউদ্দিন মন্ডলের কলেজ পড়ুয়া ছেলে পল্লব মন্ডল প্রায়ই উত্যক্ত করত। এ বিষয়ে পল্লবকে একাধিকবার নিষেধ করার পরও সে ওই মেয়েকে তুলে নেওয়ার হুমকি দেয় । গত ২০ জুন বিকাল ৪ টার দিকে মেয়েটি বাড়ি থেকে মৃগী বাজারে যায়। এরপর সন্ধ্যা নাগাদ মেয়েটি বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খুঁজতে শুরু করে।
এক পর্যায়ে জানাজানি হয় একই এলাকার কলেজ ছাত্র পল্লবসহ ৭-৮ জন মেয়েটিকে তুলে নিয়ে গেছে। মেয়েটির বাবা বিষয়টি পল্লবের বাবাসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে জানালে তারা দুইদিনের মধ্যে মেয়েটিকে ফিরিয়ে দেওয়ার কথা বলে। এদিকে মেয়েটিকে দুই দিনের মধ্যে ফিরিয়ে না দেওয়ায় মেয়েটির বাবা ২১ জুন কালুখালী থানায় একটি সাধারণ ডাইরী করে।
মেয়েটির বাবা জানান, আমি খোঁজ খবর নিয়ে জানতে পারি প্রয়োজনীয় কেনাকাটা শেষ করে মৃগী বাজার থেকে পায়ে হেঁটে বাড়ি ফেরার পথে আলাউদ্দিন মন্ডলের পুত্র পল্লব মন্ডল, আমজাদ সরদারের পুত্র নূরে আলম সিদ্দিকী হক, শামচেল মন্ডলের ছেলে নুরুল ইসলাম মন্ডল,খাতের মন্ডল, সোবাহান মন্ডল এবং বালিয়াকান্দি উপজেলার শালমারা গ্রামের হাফিজ ফকীরের ছেলে টিটো ফকীরসহ পূর্ব থেকে ওৎপেতে থাকা অজ্ঞাতনামা কতক আসামী মেয়েটির গতিরোধ করে। এ সময় নূরে আলম সিদ্দিকী হক ও নুরুল ইসলাম মন্ডলের নির্দেশে পল্লব সহ অন্যান্যরা মেয়েটিকে জোরপূর্বক একটি সাদা রঙের মাইক্রেবাসে তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। অন্যান্যরা মোটর সাইকেলযোগে চলে যায়।
এ ঘটনায় মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে কালুখালী থানায় ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক অপহরণ, ধর্ষণ ও সহায়তার অপরাধে মামলা (নং-৯৫১) দায়ের করেছেন।
কালুখালী থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ আব্দুল গণি জানান, মামলাটি তদন্তের জন্য থানার সাব ইনস্পেক্টর পরিমল কুমার বিশ্বাসকে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
