নেদারল্যান্ডে করোনা আতঙ্কে লাখ লাখ মিঙ্ককে কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস প্রয়োগ করে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। ফার ইউরোপ নামে ব্রাসেলসভিত্তিক পশম উৎপাদনের সঙ্গ যুক্ত একটি শিল্প গ্রুপের সূত্রে এ খবর দিয়েছে ন্যাশনাল জিওগ্রাফি।
৫ জুন থেকে এখন পর্যন্ত ছ’লাখ থেকে আট লাখ মিঙ্ককে হত্যা করে নেদারল্যান্ড। এই বিপুল সংখ্যক মিঙ্ককে কার্বন মনোক্সাইড গ্যাস দিয়ে হত্যা করা হয়। ১১ হাজার মিঙ্ককে মেরেছে ডেনমার্কও।
মিঙ্ক থেকে মানুষের শরীরে করোনা সংক্রমণ হতে পারে এমন সন্দেহে এই স্তন্যপায়ী প্রাণী নিধন চালিয়েছে দুই দেশ। পশম তৈরির জন্য নেদারল্যান্ড, ডেনমার্ক ছাড়াও এই প্রাণীর কদর রয়েছে চিন, পোলান্ডেও।
এপ্রিলে দুটি খামারে মিঙ্কের করোনা আক্রান্ত হওয়ার খবর সামনে আসে। সংক্রমণ ক্রমশ বাড়তেই থাকে। এমনকি একটি খামারের দুজন কর্মীও আক্রান্ত হন। এক পর্যায়ে ছড়িয়ে পড়ে যে, মিঙ্কের থেকেই ওই দুই কর্মী আক্রান্ত হন।
এমন পরিস্থিতিতে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে নেদারল্যান্ডের পার্লামেন্টও। সব খামার বন্ধ করে দেওয়ার পক্ষে দাবি তোলেন জনপ্রতিনিধিরা। এমনিতেই পশুপ্রেমীদের চাপে ২০২৪ সালের মধ্যে মিঙ্কের খামারগুলি বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল নেদারল্যান্ড। করোনা আতঙ্কে আগেই সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর দাবি ওঠে।
তবে আক্রান্ত প্রাণী থেকে কোনও মানুষ আক্রান্ত হচ্ছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। মিঙ্কের ক্ষেত্রে কিছু প্রমাণ পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন সেখানকার বিজ্ঞানীরা। মিঙ্ক ও খামারকর্মীর শরীরের নমুনায় ভাইরাসের উপর পরীক্ষা চালিয়ে এমন সিদ্ধান্ত তাদের। তবে এ বিষয়ে আরও গবেষণার দাবি তুলেছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা। ।
