তৃতীয়বারের মতো কর্পস কমান্ডার স্তরে বৈঠক করেছে পরাশক্তিধর দুই রাষ্ট্র ভারত এবং চীন। সীমান্তের সংঘর্ষের পর একের পর এক আলোচনা বেশ নজরকাড়া হলেও তা বিশেষ ফলপ্রসূ হয়নি। বরং চাপ ক্রমে বেড়েই চলেছে। গত মঙ্গলবার শেষের দিকেই এ বৈঠক ১২ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে চলার পর রাত ১১টার পরে শেষ হয়েছে।
চীন ক্রমেই নিজেদের শক্তি প্রদর্শন করতে ভেতরের দিকে ঘাঁটি তৈরি করতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যেই ফিঙ্গার-৪-এর ভেতরে স্থায়ীভাবে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে চীন। ভারতকে চাপে রাখতে আরও একধাপ এগিয়েছে পেইচিং। প্যাংগং লেক এবং গালওয়ান উপত্যকা সমস্যা সমাধানে ভারত বা চীন কেউই সেনা সরাতে রাজি হয়নি। ভারত বলছে, প্যাংগং লেকে তিন কিলোমিটার পিছু হটা কিছুতেই সম্ভব নয় কারণ তাহলে ফিঙ্গার-৪ থেকে সরে আসতে হবে। ফিঙ্গার-৪ সবসময় ভারতের নিয়ন্ত্রণে ছিল। ভারত ফিঙ্গার-৮-এ লাইন অব অ্যাকচুয়াল কন্ট্রোল দাবি করে।
ভারতের ওপর নজরদারি বাড়াতে বর্তমানে সেখানে ঘাঁটি তৈরি করেছে পিপলস লিবারেশন আর্মি। সেখানেই ব্যাঙ্কার এবং নজরদারি ব্যবস্থা করে পোস্ট তৈরি করেছে চীন। ফিঙ্গার-৪ থেকে ফিঙ্গার-৮-এর মাঝে ৮ কিলোমিটার দূরত্বে মূলত এ কাজ টানা চালিয়ে যাচ্ছে তারা। একইভাবে, গালওয়ান পেট্রল পয়েন্ট ১৪-তে দুই থেকে তিন কিলোমিটার পিছু হটতে রাজি নয় চীন।
ডেপসাং ও ডেমচকেও একইরকমভাবে অবস্থান চীনের। মঙ্গলবারের একটি বৈঠকে সব বিতর্কিত অঞ্চলগুলো আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
চীন আলোচনা শেষে জানিয়েছে, গত ২২ জুন গালওয়ানের ‘ক্লেমড লাইন’ থেকে ৮০০ মিটার দূরে ছিল তারা। গালওয়ান উপত্যকার পিপি ১৪-তে চীনা সেনারা প্রায় ১০০-১৫০ মিটার সরে গেছে। লাইন অব কন্ট্রোলে পিপি-১৪ থেকে শেষ পর্যন্ত সব পেট্রল পয়েন্ট নিজেদের বলে দাবি জানিয়েছে ভারত।
লাদাখে চীনা বাহিনীর হাতে অন্তত ২০ ভারতীয় সেনা নিহতের পর থেকেই ভারতে বাড়ছে চীনবিদ্বেষ। এরই মধ্যে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দাবি করেছেন, মোদির নেতৃত্বেই যুদ্ধ জয় করবে ভারত।
তবে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বলেছেন, মোদি ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ভারতে বেড়েছে চীনা পণ্যের আমদানি। একেবারে পরিসংখ্যান ঘেঁটে গ্রাফ করে তিনি দেখিয়েছেন, মোদি জামানায় ভারতে চায়নিজ সামগ্রীর আমদানি কী পরিমাণে বেড়েছে।
২০০৮-১৪ সালের মধ্যে চীন থেকে আমদানির পরিমাণ ছিল ১৪ শতাংশের কম। কিন্তু মোদি জামানায় এটি বেড়ে ১৮ শতাংশে পৌঁছেছে।
