করোনাভাইরাস মহামারীর সময় কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে দেশের অধস্তন আদালতগুলোতে ভার্চুয়াল পদ্ধতি অনুসরণ করে দেওয়ানি মামলার আবেদন ও আপিল করা যাবে বলে জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন। গতকাল বুধবার সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. আলী আকবর স্বাক্ষরিত এক নির্দেশিকায় এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ বিচারপতিদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের জারিকৃত স্বাস্থ্যবিধি এবং শারীরিক ও সামাজিক দূরত্ব কঠোরভাবে অনুসরণ করে অধস্তন দেওয়ানি আদালতের সংশ্লিষ্ট সেরেস্তায় মোকদ্দমা ও আপিল দায়ের করা যাবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেওয়ানি আদালতসমূহ নিজ নিজ সেরেস্তায় শারীরিক ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার জন্য মোকদ্দমা ও আপিল দায়ের/গ্রহণের প্রয়োজনীয় পদ্ধতি নির্ধারণ করবে। দেওয়ানি মোকদ্দমা ও আপিল গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট আদালত দেওয়ানি কার্যবিধি অনুসরণ করে সমন জারি করবে।
নির্দেশিকায় আরও বলা হয়, করোনা সংক্রমণ রোধে বিচারক ও আইনজীবীসহ অন্যান্য সবার স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে ভার্চুয়াল শুনানির মাধ্যমে পরিচালিত আদালতের কার্যক্রম একটি সাময়িক ব্যবস্থা। পরিস্থিতির উন্নতি হলে পূর্ব প্রচলিত পদ্ধতি অনুসরণ করে বিচার কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হবে। ভার্চুয়াল শুনানির মাধ্যমে পরিচালিত আদালতের কার্যক্রমকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সহযোগিতা করতে নির্দেশিকায় অনুরোধ জানানো হয়।
করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে গেল মার্চের শেষ সপ্তাহে ঘোষিত ছুটির মধ্যে শারীরিক উপস্থিতি ব্যতিরেকে ভার্চুয়াল আদালতের কার্যক্রম শুরু হয় গত ১১ মে। এর আগে ৭ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে গণভবনে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ‘আদালত কর্র্তৃক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ ২০২০’-এর খসড়া অনুমোদন লাভের পর ৯ মে এ সম্পর্কিত অধ্যাদেশ জারি করা হয়। এ পদ্ধতিতে অধস্তন আদালতে আসামির জামিনের শুনানি, অতি জরুরি বিষয়সহ অনলাইনে হস্তান্তরযোগ্য দলিলের (চেক ডিজঅনার) মামলার আবেদন গ্রহণ ও আসামির রিমান্ড শুনানি হচ্ছে।
