বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা, সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি এম এ হক (৬৫) করোনা উপসর্গে মারা গেছেন।
সিলেটের বেসরকারি নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় তিনি মারা যান। একইদিন বিকাল সাড়ে ৫টায় সিলেট নগরের নয়াসড়কে মানিকর পীর (রহ.) টিলা এলাকায় তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, বিএনপি নেতা আবুল কাহের চৌধুরী শামীম, আলী আহমদ, মিজানুর রহমান চৌধুরীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
প্রথম জানাজা শেষে এমএ হকের লাশ তার গ্রামের বাড়ি সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার দেওয়ানবাজার ইউনিয়নের কুলুমা গ্রামে নেওয়া হচ্ছে। সেখানে দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।
নর্থ ইস্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন সেন্টারের সমন্বয়ক অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম জানান, বিএনপি নেতা এম এ হক শ্বাসকষ্টজনিত অসুখ নিয়ে গত ৩০ জুন নর্থ ইস্ট হাসপাতালে ভর্তি হন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় গত বুধবার থেকে তিনি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টায় তিনি মারা যান।
অধ্যাপক নাজমুল আরও জানান, করোনা পরীক্ষার জন্য এম এ হকের প্রয়োজনীয় নমুনা গত বৃহস্পতিবার রাতে সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। ফল জানার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।
বিএনপি নেতা এম এ হক বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী ছিলেন। ১৯৯৩ সালে তিনি সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি হন। এই পদে ছিলেন ২০০৪ সাল পর্যন্ত। পাশাপাশি তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের (সিলেট বিভাগ) দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৩ সালে তিনি সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী হিসাবে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তবে নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগ প্রার্থী, সদ্য প্রয়াত বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের কাছে হেরেছিলেন। এরপর ২০০৮ সালে আবারও তিনি সিটি নির্বাচনে কামরানের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে হেরে যান।
২০১২ সালে তিনি সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পান। বর্তমানে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টার দায়িত্বে ছিলেন।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে, এক মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপি, বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
