বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আশঙ্কা ব্যক্ত করে বলেছেন, সামনের কোরবানির ঈদে দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়তে পারে। কারণ ওই সময়ে দেশের জনগণ এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যাবেন।
রবিবার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ফেইসবুক পেজে লাইভে সিলেটের সাউথ সুরমা ন্যাশনালিষ্ট ফোরামের উদ্যোগে করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য ডাক্তার, নার্সসহ অন্যদের অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস ও ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানের উদ্বোধনপূর্ব সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এ আশঙ্কা ব্যক্ত করেন।
মির্জা ফখরুল অভিযোগ করে বলেন, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে বিএনপির পক্ষ থেকে বারবার সতর্ক করা হলেও সরকার গুরুত্ব দেয়নি। সরকারের সদিচ্ছা থাকলে, শুরু থেকে পদক্ষেপ নিলে দেশে করোনাভাইরাসের এতে প্রাদুর্ভাব ঘটতো না। সরকারের যে ভুল হয়েছে, তা হয়েছে তাদের অদক্ষতা, অযোগ্যতার কারণে। একবার ঢাকার মানুষকে ঢাকার বাইরে যাবার সুযোগ দিয়েছে। আবার ঢাকার বাইরে থেকে মানুষকে ঢাকায় আসতে দিয়েছেন। এ কারণে করোনাভাইরাস সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, দুর্নীতির কারণে দেশের স্বাস্থ্যখাত আজ ধ্বংসপ্রায়। হাসপাতালে অক্সিজেনের অভাব। ভেন্টিলেটর নেই। মাস্ক, গ্লাভ্স, স্যানিটাইজারসহ সব জিনিসের দাম বাড়ছে। অথচ সরকারের কোনো উদ্যোগ নেই। তাদের ব্যর্থতার কারণে ডাক্তারসহ স্বাস্থ্যকর্মীরা মারা যাচ্ছেন। এ পর্যন্ত ৭০জন ডাক্তার করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে মারা গেছেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, লন্ডনে অবস্থানরত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আমাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছেন। খোঁজখবর রাখছেন। চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া নিয়মিত নির্দেশনা দিচ্ছেন। তাদের নির্দেশনা মেনে কাজ করছেন সারা দেশের বিএনপির নেতাকর্মীরা। এই দুর্যোগের সময় যারা কাজ করতে মাঠে নামছেন তাদের গ্রেপ্তার করছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা করছে। এরপরও বিএনপির নেতাকর্মীরা মাথা নত না করে কাজ করে যাচ্ছেন। এ পর্যন্ত দুই কোটি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। শত বাধা অতিক্রম করে বিএনপি ফিনিক্স পাখির মতো ঘুরে দাঁড়াবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাউথ সুরমা ন্যাশনালিষ্ট ফোরামের সভাপতি কামাল উদ্দিন আহমেদ। বক্তব্য রাখেন সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসেন, সাবেক সভাপতি আবুল কাহার চৌধুরী শামীম, জেলা বিএনপির সভাপতি আলী আহমেদ। সমন্বয় করেন জেলা যুবদলের সদস্য সচিব মকসুদ আহমেদ। বক্তব্য রাখেন বিএনপির সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হোসেন জীবন, বিএনপি নেতা কলিম উদ্দিন মিলন, যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালেক প্রমুখ।
