দিনে টেলিমেডিসিন-করোনা পরীক্ষাগারে, রাতে অসহায়দের পাশে ওরা

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০২০, ০১:৪০ পিএম

মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়। ওরা দু’জনও ছোটকালে স্বপ্ন দেখেছিল বড় হয়ে ডাক্তার হবে। মানুষের সেবা করবেন। তাদের ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। এখন মানুষের সেবায় নিজেদের নিয়োজিত করতে রাত-দিন অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছেন।

নাওয়া-খাওয়া ভুলে অবিরাম ছুটে চলছেন মানুষের দুয়ারে-দুয়ারে। এদেরই একজন তানজিল এহসান অভি। অন্যজন তানজিল হাসান। এরা দু’জনেই রূপগঞ্জের তরুণ দুই ডাক্তার। আবার দু’জনের বাড়ি একই জায়গা রূপসীতে। তাদের দু’চোখ ভরা স্বপ্ন। করোনাকালে এরা রূপঞ্জের মানুষের জন্য মানবিকযোদ্ধা হয়ে আবির্ভূত হয়েছেন।

তারা দিনে-রাতে সমানতালে মানুষের সেবায় নিয়োজিত রয়েছেন। দিনে দায়িত্ব পালনের সেবা, আর রাতে হতদরিদ্র মানুষের পাশে থেকে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন।

তানজিল এহসান অভি টেলিমেডিসিন পরামর্শ দিয়ে রূপগঞ্জের করোনা রোগীদের সেবা করে যাচ্ছেন। আর তানজিল হাসান গাজী পিসিআর ল্যাবের পরীক্ষাগারে কর্মরত থেকে করোনার নমুনা পরীক্ষা করছেন। তবে তানজিল হাসান করোনা ল্যাবে কাজ করেন বলে তার সাধারণ মানুষের মাঝে যাওয়া নিয়ে ঝুঁকি রয়েছে।

এ কারণে তানজিল হাসান যথাযথ সুরক্ষাসামগ্রী ব্যবহার করে ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে রাতে আঁধারে দুস্থদের খাবার পৌঁছে দিতে ছুটে যাচ্ছেন। এরা দু’জনই ব্যক্তি উদ্যোগে রাতের আঁধারে আশপাশের হতদরিদ্র, অসহায় ও কর্মহীন মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে রূপগঞ্জের ‘মানবিক যোদ্ধা’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ছোটকালে তানজিল এহসান অভি ও তানজিল হাসান একই পাড়ায় বড় হয়েছেন। একসাথে খেলাধুলা ও গল্প-আড্ডায় মেতে থাকতেন। ঐ সময় এই দুই তরুণ স্বপ্ন দেখেন তারা বড় হয়ে ডাক্তার হবেন। সাধারণ মানুষ ও এলাকার মানুষের সেবা দিবেন। যেমন স্বপ্ন, তেমন কাজ। অদম্য ইচ্ছাশক্তি এদের স্বপ্ন পূরণে সহযোগিতা করে। দু’জনই রূপগঞ্জ উপজেলার রূপসী এলাকার সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান। ঢাকার অনেক বড় বড় হাসপাতালে চাকরি করার সুবিধা হাতছাড়া করেছেন তারা। এমবিবিএস পাস করার দুইজনেই স্থানীয় ইউএস বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিক্ষকতা করছেন। তাদের আকাঙ্খা এলাকার মানুষের চিকিৎসা সেবা দেওয়া। করোনাকাল তাদের সেই আকাঙ্খার বাস্তাবায়ন ঘটিয়েছে।       

স্থানীয়রা জানায়, ডা. তানজিল এহসান অভি ও তার স্ত্রী ডা. আফরুন্নেসা মুনা রূপগঞ্জবাসীকে টেলিমেডিসিন সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। তাদের টেলিমেডিসিন সেবা নিয়ে উপকৃত হয়েছেন অনেকেই। অনেকে আবার তাদের যথাযথ পরামর্শে প্রায় অর্ধশত করোনা আক্রান্ত রোগী করোনা জয় সুস্থ হয়েছেন বলেও জানা যায়।

অপরদিকে, ডা. তানজীল হাসান কাঞ্চনের গাজী পিসিআর ল্যাবের পরীক্ষাগারে থেকে করোনা রোগীদের টেস্ট করাচ্ছেন। এটা ছাড়াও মানুষকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে চিকিৎসা পরামর্শ দিয়ে সেবা দিচ্ছেন। তারা সাধারণ মানুষকে মাস্ক ব্যবহারে সচেতন করতে তারা প্রতিটি মসজিদে লিফলেট বিতরণ করছেন।

ইতোমধ্যে প্রায় তিন হাজার পথচারী, রিকশাচালক, শ্রমিকের মাঝে মাস্ক বিতরণ করেছেন। খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছেন প্রায় ৫ শতাধিক পরিবারের মাঝে।

করোনাযুদ্ধে মানবিক যোদ্ধা এ দুই তরুণ ডাক্তারের পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন কলামিস্ট, গবেষক ও রূপগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি মীর আব্দুল আলীম, গাজী গ্রুপের উপ-ব্যবস্থপনা পরিচালক গোলাম মর্তুজা পাপ্পা ও স্থানীয় ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান হাবিবসহ অনেকে।        

ডা. তানজিল হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, রূপগঞ্জে করোনা পরীক্ষাগার চালু হওয়ায় রূপগঞ্জবাসী অনেক উপকৃত হচ্ছে। রূপগঞ্জের নমুনা অন্য কোথাও পাঠাতে হচ্ছে না গাজী পিসিআর ল্যাবেই পরীক্ষা করা যাচ্ছে। রূপগঞ্জের সন্তান হওয়ার সুবাদে এখানকার মানুষের জন্য কিছু করা আমার দায়িত্ব বলে মনে করি। যেহেতু এখনো করোনার ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয়নি সে কারণে সকলকে সচেতন থাকতে হবে। ভ্যাকসিন আসার আগ পর্যন্ত করোনা নিয়ন্ত্রণে মাস্ক পরাই হচ্ছে সর্বোত্তম পদ্ধতি।   

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত