রিজেন্ট হাসপাতালের মালিককে ‘খুঁজছে’ র‌্যাব, বিমান ও স্থলবন্দরে সতর্কতা

আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২০, ০২:০৮ এএম

করোনা পরীক্ষার ভুয়া সার্টিফিকেট প্রদান ও রোগীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়াসহ জালিয়াতির অভিযোগে ঢাকার রিজেন্ট হাসপাতাল বন্ধ করে দেওয়ার পর এর মালিক মো. সাহেদকে এখন গ্রেপ্তারের জন্য খুঁজছে র‌্যাব।  

র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার প্রধান সারোয়ার বিন কাশেম মঙ্গলবার রাতে গণমাধ্যমকে এই তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান শাহেদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা হয়েছে। তাদের গ্রেপ্তারে মাঠে নেমেছে র‌্যাবের চারটি দল।

র‌্যাবের গোয়েন্দা শাখার প্রধান আরও বলেন, তিনি দেশের বাইরে চলে যেতে পারেন। এ ধরনের তথ্য আছে। আর সে অনুযায়ী বিমানবন্দরসহ স্থলবন্দরগুলোতেও তার ব্যাপারে তথ্য পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিনি যেন কোনোভাবেই দেশের বাইরে যেতে না পারেন। আমরা তাকেসহ অন্যদের গ্রেপ্তারের জন্য কাজ করছি।

করোনা পরীক্ষার ভুয়া সার্টিফিকেট প্রদান ও রোগীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগে রিজেন্ট গ্রুপের মূল কার্যালয় এবং রাজধানীর উত্তরা ও মিরপুরের দুটি হাসপাতাল সিলগালা করে দেওয়া হয়।

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের-র‍্যাবের অভিযানে এ অনিয়মের সত্যতা পাওয়ায় মঙ্গলবার এই সিলগালা করা হয়।

এর আগে সোমবার উত্তরার রিজেন্ট হাসপাতালে র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারোয়ার আলমের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানের সময় রিজেন্ট হাসপাতালের পরিচালক ও ব্যবস্থাপকসহ আট জন কর্মীকে আটক করে র‍্যাব। তবে মালিকসহ ঊর্ধ্বতন কয়েকজন এখনো পলাতক।

র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, ‘অপকর্মগুলো রিজেন্ট গ্রুপের হেড অফিস থেকে সম্পাদিত হয়ে আসছিল বিধায় আমরা সেটিকে সিলগালা করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দুটি হাসপাতালের রোগীদের ইতোমধ্যে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।’

তিনি জানান, হাসপাতালটি এ পর্যন্ত ১০ হাজারেরও বেশি করোনা পরীক্ষার সার্টিফিকেট প্রদান করেছে। তারা আইইডিসিআর, আইটিএইচ ও নিপসম থেকে ৪ হাজার ২০০ রোগীর বিনা মূল্যে নমুনা পরীক্ষা করিয়ে এনেছে। পাশাপাশি নমুনা পরীক্ষা না করেই আরও তিন গুণ লোকের ভুয়া করোনা রিপোর্ট তৈরি করেছে।

সরোয়ার আলম আরও বলেন, প্রতি পরীক্ষার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ৩ হাজার ৫০০ করে টাকা নিয়েছে। এর মানে হলো তারা এ পর্যন্ত প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেছে। যদিও হাসপাতালটির সঙ্গে সরকারের চুক্তি ছিল ভর্তি রোগীদের বিনা মূল্যে চিকিৎসা দেওয়ার। সরকার এই ব্যয় বহন করবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত