রেফারির নির্ভুল সিদ্ধান্ত নিতে যে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) প্রযুক্তি চালু করা হয়েছে সেটি এখন প্রশ্নের কাঠগড়ায়। এই প্রযুক্তির সমালোচনা যখন তীব্র হচ্ছে তখন বৃহস্পতিবার ভিআরের ‘ভুলময়’ এক রাত দেখল ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ। এদিন লিগটিতে এই প্রযুক্তির সহায়তায় নেওয়া তিনটি সিদ্ধান্তের সবগুলোই ভুল প্রমাণিত হয়েছে!
ভিএআরের সহায়তায় একটি করে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় অ্যাস্টন ভিলা-ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, টটেনহ্যাম হটস্পার-বোর্নমাউথ ও এভারটন-সাউদাম্পটন মধ্যকার লড়াইয়ে।
অ্যাস্টন ভিলার মাঠে ম্যানইউ’র ৩-০ গোলের জয় পাওয়া ম্যাচে ইউনাইটেড মিডফিল্ডার ব্রুনো ফার্নান্দেজকে ফাউল করার জন্য ভিএআরের সহায়তা নিয়ে ভিলার বিপক্ষে পেনাল্টি দেন রেফারি।
ভিডিও রিপ্লেতে দেখা গেছে পেনাল্টির সিদ্ধান্তটা ভুল ছিল। পেনাল্টি বক্সে ফাউলের প্রমাণ খুবই সামান্য। প্রিমিয়ার লিগ ম্যাচ সেন্টার থেকে ‘ম্যাচ অব দ্য ডে’তে এভারটনের সাবেক অস্ট্রেলিয়ান ফুটবলারও বলেন, “এটা ভুল সিদ্ধান্ত। ভিএআরের সিদ্ধান্তটা পাল্টানো উচিত ছিল। কিন্তু তা করা হয়নি।”
ভিএআরের ফলে বড় এক ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে টটেনহ্যাম ও বোর্নমাউথ মধ্যকার দিনের প্রথম লড়াইয়ে। গোলশূন্য ড্র হওয়া ম্যাচটিতে স্বাগতিক বোর্নমাউথের জশুয়া কিং পেনাল্টি বক্সে টটেনহ্যামের হ্যারি কেইনকে ফাউল করলেও পেনাল্টি দেওয়া হয়নি।
এ নিয়ে ম্যাচ শেষে ক্ষোভ ধরে রাখতে পারেননি টটেনহ্যামের কোচ হোসে মরিনহো। তার মতে, ‘দুনিয়ার সবার দৃষ্টিতে এটা পেনাল্টি ছিল’। এই ফাউলে পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেওয়া উচিত ছিল বলে মনে করে প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষও।
১-১ গোলে ড্র হওয়া এভারটন ও সাউদাম্পটন মধ্যকার লড়াইয়েও ভিএআরের সহায়তায় দেওয়া সিদ্ধান্তটি ছিল ভুল। ডি-বক্সে সাউদাম্পটনের খেলোয়াড় জেমস ওয়ার্ড প্রোজিকে স্বাগতিক এভারটরনের খেলোয়াড়র আন্দ্রে গোমেস ধাক্কা দেওয়ায় পেনাল্টির বাঁশি বাজিয়েছিলেন রেফারি।
কিন্তু ভিডিও রিপ্লেতে দেখা যায় গোমেসের ওপর পড়ে গিয়েছিলেন প্রজি। পেনাল্টি পেয়েও অবশ্য গোল করতে পারেনি ইংলিশ এই ডিফেন্ডার। তার নেওয়া স্পট-কিকটি গিয়ে লাগে গোলবারে।
সিদ্ধান্তগুলো যে ভুল হয়েছে তা স্বীকার করেছে প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষও। তবে বিবিসি’র ‘ম্যাচ অব দ্য ডে’ প্রোগ্রামে এই প্রযুক্তির কোনো ভুল ধরেননি বিশ্লেষক টিম কাহিল, “আমি মনে করি, এটা সত্যিকার অর্থেই তাদের (রেফারিদের) সহায়তা করবে। কিন্তু মুহূর্তগুলো বুঝতে হবে।”
“পেনাল্টি পাওয়ার জন্য কখনও কোনো খেলোয়াড় পড়ে যায় কি-না আপনাকে সেটাও আপনাকে বুঝতে হবে। খেলোয়াড়রা যা করছে সে ব্যাপারে আপনাকে অবশ্যই পরামর্শ দেওয়ার দরকার আছে।”
“এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে কখনো কখনো বড় ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়। কিন্তু তারা এটা পারছে না। এটা সত্যিকার অর্থেই হতাশাজনক।”
