কক্সবাজার সৈকতে হঠাৎ ভেসে এসেছে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য

আপডেট : ১২ জুলাই ২০২০, ১০:১৩ পিএম

কক্সবাজার জনশূণ্য সমুদ্র সৈকতে ভেসে এসেছে বিপুল পরিমাণ বর্জ্য। শনিবার রাত থেকে রোববার সারাদিন সমুদ্রের জোয়ারের পানিতে এসব বর্জ্য ভেসে এসে কূলে ভিড়েছে। এরমধ্যে প্লাষ্টিক, ইলেক্ট্রনিক্স বর্জ্য ছাড়াও দেশী-বিদেশী মদের খালি বোতল, ছেড়া জালসহ নানা প্রকার বর্জ্য রয়েছে।

সৈকতের ভ্যালি হ্যাচারি থেকে দরিয়া নগর পয়েন্ট পর্যন্ত এসব বর্জ্য ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। হঠাৎ এত বর্জ্যে কিভাবে এসেছে তা অনুসন্ধান শুরু করেছে প্রশাসন।

করোনা সংকটে দীর্ঘ সাড়ে ৩ মাসেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ রয়েছে কক্সবাজার সৈকতসহ এখানকার হোটেল-মোটেল ও সব পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ। কিন্তু জনশূন্য এই সমুদ্র সৈকত সয়লাব হয়ে গেছে বিপুল পরিমাণ বর্জ্যে।

বিশেষ করে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের কলাতলী, দরিয়া নগর থেকে শুরু করে হিমছড়ি সৈকত এলাকা পর্যন্ত শনিবার রাত থেকে একের পর এক বর্জ্য ভেসে আসছে। এই বর্জ্যরে মধ্যে শুধু প্লাস্টিক, ইলেকট্রনিক পণ্য নয় ভেসে এসেছে ছেঁড়া নাইলনের জাল ও শত শত বিভিন্ন প্রকারের মদের বোতল। এতে  আটকে সামুদ্রিক নানা ধরনের প্রাণী মারা পড়ার পাশাপাশি পরিবেশ দূষনের আশংকা করছেন পরিবেশবাদীরা। 

কক্সবাজার কলাতলী এলাকার বাসিন্দা ও চাকুরিজীবী রাশেদ রিপন জানান, ‘সকাল সমুদ্র সৈকতে হাঁটতে বের হয়ে দেখতে পেয়েছেন সমুদ্র সৈকতের ভ্যালী হ্যাচারি পয়েন্ট থেকে দীর্ঘ এক কিলোমিটার বিপুল পরিমাণ বর্জ্য ভেসে এসেছে। এত পরিমাণ বর্জ্য ভেসে সমুদ্র তীরে ভিড়েছে যে পায়ে হাঁটার মতো পরিবেশ ছিল না। নানা রকম বর্জ্য ছাড়াও দেশী-বিদেশী মদের খালি বোতল দেখে বিস্মিত হয়ে যান। তার ধারণা, জনশূণ্য সমুদ্র সৈকতে কিছু অসাধু হোটেল ব্যবসায়ী হোটেলের বর্জ্যগুলো সাগরে নিক্ষেপ করেছে’।

কলাতলী ভ্যালী হ্যাচারি এলাকার বাসিন্দা জাফর আলম বলেন, ‘একসাথে এত বর্জ্য ভেসে আসার ঘটনা এই প্রথম। দীর্ঘ এলাকা জুড়ে শুধু বর্জ্য আর বর্জ্যে সয়লাভ হয়ে গেছে। এসব বর্জ্যের স্তুপের সাথে মৃত কাছিম ভেসে আসায় বাতাসে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে’।

কক্সবাজার পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি দীপক শর্মা দীপু জানান, ‘কক্সবাজারের কলাতলীতে অবস্থিত হোটেল মোটেল গুলো এমনিতে মলমত্র সরাসরি সৈকতে পানিতে ছেড়ে দিচ্ছে। তার উপর নির্জন সৈকতে কেউ না থাকার সুযোগে বর্জ্যগুলো সাগরে ফেলে দিয়েছে। হয়তো হোটেল কর্তৃপক্ষ মনে করছিল সাগরে পানিতে এসব বর্জ্যগুলো ভেসে যাবে, কিন্তু, সাগরের পানি বর্জ্যগুলোতে উল্টো তীরে ভিড়ে দিয়েছে। বিষয়টি অনুসন্ধান করে সাগরে বর্জ্য নিক্ষেপকারিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

সেভ দ্য নেচার অব বাংলাদেশ নামের কক্সবাজার ভিত্তিক পরিবেশ সংগঠনের চেয়ারম্যান আ.ন.ম  মোয়াজ্জেম হোসাইন জানান- ‘খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দেখেছি প্লাস্টিক, ইলেকট্রনিক বর্জ্য আর ছেঁড়া জাল ও খালি মদের বোতল ভেসে এসেছে। তবে কি কারণে ভেসে এসেছে জানা না গেলেও এসব বর্জ্যে সামুদ্রিক মাছসহ বিভিন্নভাবে পরিবেশ বিপর্যয় ঘটতে পারে। তাই দ্রুত বর্জ্যগুলো সাগর থেকে অপসারণ জরুরী। 

কক্সবাজার পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. নাজমুল হুদা বলেন, সাগরে বর্জ্য ভেসে আসার খবরে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। সেখানে গিয়ে দেখা গেছে নানা প্রকার বর্জ্যের পাশাপাশি বেশ কিছু ছেঁড়া জাল, প্লাষ্টিক, ইলেক্ট্রনিক্স ও কিছু সামুদ্রিত মৃত কাছিমও ভেসে এসেছে। তবে কি পরিমাণ বর্জ্য সেটি নির্নয় করা কঠিন। আমার ধারণা সাগরে মাছ ধরার ট্রলার থেকে এসব বর্জ্য সাগরে নিক্ষেপ করা হয়েছে। এতে করে স্বাভাবিকভাবে প্রাকৃতিক কারণে বর্জ্যগুলো ভেসে আসতে পারে। আমি কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের সাথে কথা বলেছি, সোমবার থেকে সাগরে পড়ে থাকা বর্জ্যগুলো অপসারণ করা হবে।

কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন বলেন, বর্জ্যেগুলো কোথা থেকে কিভাবে এসেছে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সাথে সমুদ্র চর থেকে এসব বর্জ্য অপসারণের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত