হংকংয়ের ওপর চীন সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা আইন আরোপের ফলে সেখান থেকে নিজেদের অনেক সংবাদকর্মীদের সরিয়ে নেওয়া সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিউ ইয়র্ক টাইমস। বুধবার সংবাদকর্মীদের দেওয়া এক ইমেইল বার্তায় সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয় বলে জানিয়েছে এএফপি।
গত মাসে স্বায়ত্তশাসিত হংকংয়ের ওপর নতুন নিরাপত্তা আইন কার্যকরী করে চীন। ওই সিদ্ধান্তের পর প্রথম কোনো আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সেখান থেকে সরে যাওয়ার মতো পদক্ষেপ নিল।
সম্প্রতি চীনের পার্লামেন্ট নতুন হংকং নিরাপত্তা আইন পাস হয়। এ আইনের আওতায় হংকংয়ে বিচ্ছিন্নতাবাদ, কর্তৃপক্ষকে অবমাননা, সন্ত্রাসবাদ ও জাতীয় নিরাপত্তা বিপন্ন করতে বিদেশি বাহিনীর সঙ্গে আঁতাত নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং এ ধরনের অপরাধের জন্য শাস্তির বিধান করা হয়েছে।
এই আইনের বিরুদ্ধে আগে থেকেই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে হংকংবাসী। তাদের দাবি, এই আইনের মাধ্যমে হংকংয়ের স্বায়ত্তশাসন কেড়ে নিচ্ছে চীন।
ইমেইল বার্তায় টাইমস কর্তৃপক্ষ থেকে বলা হয়েছে, নতুন নিরাপত্তা আইনের ফলে “আমাদের কার্যক্রম ও সাংবাদিকতা চালিয়ে নেওয়া নিয়ে অনেক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।”
কয়েক দশক ধরেই নিউ ইয়র্ক টাইমসের এশিয়া অঞ্চলের কার্যক্রম হংকং থেকে পরিচালিত হচ্ছে। সেখান থেকেই এই অঞ্চলের সংবাদ কাভার করে থাকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এই সংবাদমাধ্যম। নিই ইয়র্ক ও লন্ডন কার্যালয়ের পাশাপাশি হংকং থেকেও ডিজিটাল ভার্সনে ২৪ ঘণ্টা সংবাদ প্রকাশ করে তারা।
টাইম কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে আগামী বছরের মধ্যে তাদের হংকং অফিসের ডিজিটাল নিউজ টিমের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কর্মী সরিয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সিউলে নিয়ে যাওয়া হবে।
হংকংয়ে সম্প্রতি কর্মীদের ওয়ার্ক পারমিট নিশ্চিত করা চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়েছে। ভিসার মেয়াদ বাড়াতে এখন চীন ভূখণ্ডে যেতে হয়।
এর চলতি বছরের শুরুতে নিউ ইয়র্ক টাইমসসহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের অনেক সাংবাদিককে বহিষ্কার করে চীন। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্রেও চীনের অনেক সাংবাদিককে বহিষ্কার করে ট্রাম্প সরকার।
চীন থেকে বহিষ্কৃত টাইমসের সাংবাদিকেরা এরই মধ্যে সিউল অফিসে যোগ দিয়েছেন।
