সিঁদল খাবারে নভেল করোনাভাইরাসের গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকি কমে যায় বলে বিশ্বাস ভারতীয় আদিবাসীদের।
ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অব মেডিকেল রিসার্চের (আইসিএমআর) তথ্য অনুযায়ী মেঘালয়, মণিপুর, নাগাল্যান্ড বা আসামে করোনা সংক্রমণ সবচেয়ে কম। মৃত্যু আরো কম।
ভারতের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আদিবাসী ও জনজাতিদের অন্যতম প্রিয় রেসিপি ‘সিঁদল শুঁটকি’। স্থানীয়দের মতে, ম্যালেরিয়া ঠেকানোর অন্যতম ‘ওষুধ’ এটি।
বাংলাদেশের রংপুর অঞ্চলেও এই খাবারটি জনপ্রিয়। এটি তৈরি হয় শুঁটকি মাছ, কচুসহ নানা উপাদানে। তৈরির পর চ্যাপটা বা গোল ছোট ছোট বলের আকারে রেখে দেওয়া হয়। পরে মাছ, সবজির সঙ্গে রান্না বা ভর্তা করে সিঁদল খেতে হয়।
আসামের কার্বি-আংলঙ ম্যালেরিয়া অধ্যুষিত এলাকা। এখানকার অত্যন্ত জনপ্রিয় খাবার এই সিঁদল। বাড়ি থেকে হোটেল-সব জায়গায় পাওয়া যায়। এমনকি মেঘালয়, মণিপুর, নাগাল্যান্ড, মিজোরামেও প্রিয় খাবার সিঁদল।
উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যের অধিকাংশ বাসিন্দার বিশ্বাস, সিঁদল যেমন ম্যালেরিয়ার যম, তেমনি কভিড-১৯ ভাইরাসও ঠেকাচ্ছে।
ভারতের আইসিএমআরের তথ্য বলছে, নাগাল্যান্ড-মিজোরামে এখন পর্যন্ত যথাক্রমে ২৩৮ এবং ৮৯৬ জন কভিড আক্রান্ত হয়েছেন। কিন্তু একজনেরও করোনা সংক্রমণে মৃত্যু হয়নি। চার মাসে মেঘালয়ে আক্রান্ত হয়েছেন ৩১৮ জন। সুস্থ হয়েছেন ৬৬ জন। মারা গেছেন মাত্র দু’জন। আবার অরুণাচল প্রদেশে মোট আক্রান্ত ৪৬২ জন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ১৫৩ জন। মৃত্যু হয়েছে তিনজনের।
দেশটির গুয়াহাটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের বায়োকেমিস্ট্রির বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. কৈলাস ভট্টাচার্য বলেন, ‘দীর্ঘ সময় ধরে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের আদিবাসী ও জনজাতিদের মধ্যে পুঁটিমাছ মাটির তলায় রেখে শুকিয়ে পরে রান্না করে খাওয়া অভ্যাস। তাদের বিশ্বাস এই খাদ্য জীবাণুনাশক। সুপারিও এই পদ্ধতিতে খাওয়া হয়।’
এই বিশ্বাসের সঙ্গে তিনি অবশ্য বিজ্ঞানকে মেলাতে চাননি, ‘শুকিয়ে মাটির তলায় রাখার ফলে রাসায়নিক বিক্রিয়া হয়। তবে তা কতটা বিজ্ঞানসম্মত তা এখনও যাচাই করা হয়নি। বিশ্বাসকে বাস্তবের আতশকাচে যাচাই করতে গেলে পরীক্ষা দরকার।’
কভিড-১৯ রোগের ক্ষেত্রে আরো একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়ি মানুষদের ফুসফুসের কর্মক্ষমতা বেশি। কভিডে মৃত্যু হার কম হওয়ার পিছনে এটাও একটি অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
