চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধবিষয়ক দুদিনের কর্মশালার ভুয়া বিল ভাউচার বানিয়ে সরকারি বরাদ্দ লুটের অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের তীর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচও) ডা. আবু জাহিদ মোহাম্মদ সাইফউদ্দীনের বিরুদ্ধে। অনেক প্রশিক্ষণার্থী এ কর্মশালায় অংশ নেননি অথচ তাদের সই জাল করে ভুয়া ভাউচার দিয়ে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ডা. আবু জাহিদ মোহাম্মদ সাইফউদ্দীন দাবি করেন, যথাযথ নিয়মে প্রশিক্ষণ হয়েছে। আর প্রশিক্ষণার্থীরা যার যার প্রাপ্য পেয়েছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তথ্য মতে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে জুন মাসে দুদিনব্যাপী কর্মশালার জন্য সরকারি বরাদ্দ পাওয়া গেছে ৭৬ হাজার ৪১৮ টাকা। সেই টাকায় ৪০ প্রশিক্ষণার্থীর খাবার ভাতাসহ উপকরণ, প্রশিক্ষকদের সম্মানী ও আনুষঙ্গিক ব্যয় করা হয়েছে। এ প্রশিক্ষণে ৫ চিকিৎসক, ৫ নার্স ও ৩০ স্বাস্থ্যকর্মীর অংশগ্রহণ দেখানো হয়েছে। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারীদের ৫ চিকিৎসক জনপ্রতি ৯০০ টাকা করে দুদিনের ৯ হাজার টাকা। ৫ নার্সের জনপ্রতি দিনে ৭০০ টাকা করে দুদিনের ৭ হাজার টাকা আর তৃতীয় শ্রেণির ৩০ স্বাস্থ্যকর্মীর জনপ্রতি দিনে ৬০০ টাকা করে দুদিনের ৩৬ হাজার টাকা বিল করা হয়। কিন্তু এসব প্রশিক্ষণার্থীর সিংহভাগই প্রশিক্ষণে অংশ নেননি। অথচ তাদের অনেকে প্রশিক্ষণ-ভাতা পেয়েছেন।
দুদিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির তারিখ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ব্যানার ও বিল ভাউচারে প্রশিক্ষণের সময় ১৫ ও ১৬ জুন দেখানো হলেও কেউ কেউ বলছেন ১৪ ও ১৫ জুন। মূলত ১৮ জুন ১১ প্রশিক্ষণার্থী নিয়ে এক ঘণ্টার কর্মশালা হয়েছে বলে জানা গেছে। নির্ধারিত সময়ে প্রশিক্ষণ না করিয়ে অনেকের সই জাল করে বিল ভাউচারে টাকাপ্রাপ্তি দেখানো হয়েছে।
প্রশিক্ষণে যে সাত স্বাস্থ্যসহকারীর নাম উল্লেখ আছে, তাদের চারজন প্রশিক্ষণে ছিলেন না। ওই সময় তারা স্ব-স্ব এলাকায় ইপিআই কার্যক্রমে ছিলেন।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য পরিদর্শক মেঘনাথ দত্তের কাছে জানতে চাইলে তিনি স্বাস্থ্যসহকারী ও সিএইচসিপি সবাই প্রশিক্ষণ নিয়ে ভাতা তুলেছেন বলে দাবি করেন। একপর্যায়ে একই সময় প্রশিক্ষণ ও ইপিআই কার্যক্রম চালানো সম্ভব কি নাÑ এমন প্রশ্নে তিনি ইউএইচওর সঙ্গে কথা বলার অনুরোধ করেন।
কমিউনিটি হেলথকেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) তৌহিদুল ইসলাম বলেন, প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করিনি, তবে ভাতা পেয়েছি। প্রশিক্ষণ-ভাতার ১২০০ টাকার মধ্যে ৪০০ টাকা বস কেটে ফেলেছেন, এজন্য সই করিনি। তালিকায় নাম থাকা আরেক সিএইচসিপি মাহফুজুর রহমান বলেন, প্রশিক্ষণের বিষয়টি আমাকে কেউ জানাননি, ভাতাও পাইনি। তবে সিএইচসিপি মোস্তাফিুর রহমান জানান, ১৪ জুন এক ঘণ্টার প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করে তিনি ১২০০ টাকা ভাতা পেয়েছেন।
প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে অনেকের অভিযোগ, তাদের কোনো প্রশিক্ষণ হয়নি। কিন্তু অনেকে প্রশিক্ষণ-ভাতা পেয়েছেন। চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. ফজলে রাব্বী দেশ রূপান্তরকে বলেন, এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
