নারায়ণগঞ্জ খানপুর ৩০০ শয্যা (করোনা) হাসপাতালে ব্যক্তিগত উদ্যোগে আরও একটি নতুন ভবন নির্মাণের জন্য জেলার ব্যবসায়ীদের কাছে ‘হাত পেতেছেন’ স্থানীয় এমপি ও বিকেএমইএ সভাপতি সেলিম ওসমান।
তিনি বলেছেন, ‘আমি কখনো কারো কাছে হাত পাতি নাই। কিন্তু নারায়ণগঞ্জের মানুষের জন্য, তাদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে আপনাদের ব্যবসায়ীদের কাছে সহযোগীতা চেয়ে হাত পাতছি’।
নারায়ণগঞ্জে অবস্থিত জাতীয় ও জেলা পর্যায়ের প্রায় সকল ব্যবসায়ী সংগঠনের সাথে এক মতবিনিমিয় সভায় ভবন নির্মাণে অনুদান চাওয়ার প্রাক্কালে এসব কথা বলেন সেলিম ওসমান এমপি। রোববার রাতে নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স মিলনায়তনে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
করোনা রোগীদের পাশাপাশি অন্য রোগে আক্রান্ত সাধারণ মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে এই নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছেন সেলিম ওসমান। রবিবার মতবিনিময় সভাতেই বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও সংগঠনের পক্ষ থেকে সাড়ে ৩ কোটি টাকার ফান্ড তুলে দেওয়া হয় সেলিম ওসমানের হাতে।
সভায় সেলিম ওসমান এমপি আরো বলেন, বর্তমানে যে পরিস্থিতি চলছে তাতে ব্যবসায়ীদের কাছে সহযোগীতা চাইতে লজ্জা করছে। কারণ, এই সময়টাতে ব্যবসায়ীরাও ভাল নাই। তারপর আমি আপনাদের কাছে হাত পাতলাম। আপনারা আপনাদের যার যার সাধ্যমত সহযোগীতা করবেন। আমরা খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালে সাড়ে ৫ হাজার স্কয়ার ফিট জায়গা নিয়ে ৮ তলা ফাউন্ডেশন দিয়ে ৬ তলা একটি নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছি। যেখানে নারায়ণগঞ্জের মানুষের সকল ধরনের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।
সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান বলেন, এর জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে আমরা অনুমোদন আনতে যাব। অনুমোদন পেলে আশা করছি, আগামী ডিসেম্বর মাসের মধ্যে আমরা কাজ শেষ করতে পারবো। অনুমতি না পেলে এই অনুদান যারা দিয়েছেন তাদের টাকা ফেরত দিয়ে দিতে হবে’।
এ সময় বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ নারায়ণগঞ্জ জেলা ইউনিট কমান্ডের সাবেক কমান্ডার মোহাম্মদ আলী, জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সদস্য অ্যাডভোকেট হোসনে আরা বেগম বাবলী, বাংলাদেশ ক্লথ মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রবীর কুমার সাহা, নারায়ণগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি খালেদ হায়দার খান কাজল, বিকেএমইএ এর সহ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, নারায়ণগঞ্জ ক্লাব লিমিটেড এর সভাপতি তানভীর আহম্মেদ টিটু সহ বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সহ শতাধিক ব্যবসায়ী।
এর আগে রবিবার বিকালে সাংসদ সেলিম ওসমান বন্দর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন। সেখানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নের্তৃবৃন্দের সাথে মতবিনিময় সভায় হাসপাতালটিকে এই মুজিব বর্ষের মধ্যে ১০০ শয্যায় রূপান্তর করার ঘোষণা দেন তিনি। এর জন্য ১ কোটি টাকার আলাদা ফান্ড গঠনের কথাও জানান তিনি।
