পশ্চিমা দুনিয়ায় যুক্তরাজ্যকে সবচেয়ে বড় লক্ষ্যবস্তুর একটি মনে করে রাশিয়া। ব্রিটিশ গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বিষয়টি প্রকাশ পেয়েছে।
বিবিসি জানায়, ব্রিটিশ পার্লামেন্টের নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংক্রান্ত ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড সিকিউরিটি কমিটি (আইএসসি) এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।
এতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং পশ্চিমা বিশ্বে প্রধান রুশ-বিরোধী লবি- এ কারণে যুক্তরাজ্য রাশিয়ার প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
তদন্ত শেষ হওয়ার প্রায় দেড় বছর পর মঙ্গলবার প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হলো।
তবে এতে অনেক স্পর্শকাতর বিষয় থাকায় প্রতিবেদনের অনেক কিছুই জনগণের সামনে প্রকাশ করা হবে না বলে জানা গেছে।
গোপন গোয়েন্দা তথ্য সেইসঙ্গে স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে পাওয়া নথিপত্রের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি হয়। রাশিয়া কীভাবে যুক্তরাজ্যের জন্য হুমকি সেইসঙ্গে এর পাল্টা ব্যবস্থার কার্যকারিতাগুলো প্রকাশ পায় এতে।
রাশিয়ার পক্ষ থেকে মিথ্যে তথ্য প্রচার, সাইবার আক্রমণ এবং যুক্তরাজ্যে রুশ নাগরিকদের বিষয়ও উঠে আসে আইএসসির এই প্রতিবেদনে ।
এতে যুক্তরাজ্যে বিভিন্ন সময়ের সরকারের সমালোচনা করে বলা হয়, এরা 'রুশ অলিগার্ক' নামে পরিচিত বিত্তবান ও প্রভাবশালী ব্যবসায়ীদের বুকে টেনে নিয়েছে।
যার ফলে যুক্তরাজ্যের ওপর রুশ প্রভাব এখন এক 'নিউ নর্মাল' বা নতুন এক স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে বলে প্রতিবেদনটিতে মন্তব্য করা হয়েছে।
এর ফলে একটি মৌলিক প্রশ্ন উঠে আসে, রাশিয়ার হাত থেকে ব্রিটিশ গণতন্ত্রকে কে বাচাঁবে? এতে প্রতিবেদনটির লেখকদের উত্তর, কেউ না!
এদিকে এই প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে আইএসসির একজন সদস্য কেভিন জোন্স প্রতিবেদনটি প্রকাশে দেরি করার জন্য ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের সমালোচনা করেন।
ডিসেম্বরে নির্বাচনের আগে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করার কথা ছিল। প্রধানমন্ত্রীর দফতরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হচ্ছে তারা সেটি আটকে রেখেছিল। তবে ডাউনিং স্ট্রিট অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
