শ্লীলতাহানি অভিযোগে অভিযুক্ত সেই অধ্যক্ষ দায়িত্বে ফিরলেন

আপডেট : ২৩ জুলাই ২০২০, ০১:৪৩ পিএম

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে দুই স্কুলছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগে অভিযুক্ত মির্জাপুর মহিলা কলেজের সেই অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদ বরখাস্ত হওয়ার এক বছর পর পুনরায় কলেজে যোগদান করেছেন।

এতে ওই কলেজের শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং মির্জাপুরের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত ২০ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখ বৃহস্পতিবার দুপুরে কলেজের একটি কক্ষে আটকিয়ে ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির দুই ছাত্রীকে অধ্যক্ষ শ্লীলতাহানি করেন।

এ সময় ওই দুই ছাত্রীর চিৎকার শুনে এক ছাত্রীর মা ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় লোকজন নিয়ে তাদের উদ্ধার করেন। পুলিশ খবর পেয়ে কলেজ অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়ার কিছু সময় পরে ছেড়ে দেয়।

ওই দুই ছাত্রীর অভিভাবক এ বিষয়ে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল মালেকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।

বিষয়টি টাঙ্গাইল তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. শহীদুল ইসলামের নজরে আসলে তিনি তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. হারুন অর রশিদকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- কৃষি অফিসার মো. মশিউর রহমান এবং মহিলা বিষয়ক অফিসার মিনু পারভীন।

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর গত ২৪ জুন ২০১৯ তারিখে মহিলা কলেজ পরিচালনা পরিষদের এক সভা শিক্ষকদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সর্বসম্মতিক্রমে কলেজের অভিযুক্ত অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদকে সাময়িক বরখাস্ত এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়।

বরখাস্ত হওয়ার এক বছর পর অভিযুক্ত সেই অধ্যক্ষ গত ৩০ জুন ২০২০ পুনরায় কলেজে যোগদান করেন।

একটি ঘৃণ্য অপরাধের পর করোনার এই সময়ে কীভাবে তিনি আবার স্বপদে বহাল হলেন সেই প্রশ্ন এখন স্থানীয়দের।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এমন শিক্ষকের কাছে তাদের মেয়েরা কোনভাবেই নিরাপদ নয়। তারা ওই অধ্যক্ষকে এই কলেজ থেকে চিরতরে বিদায়ের দাবি জানান।

মির্জাপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ ওয়াহীদ ইকবাল বলেন, ওই অধ্যক্ষ কলেজে থাকা মানে ছাত্রীরা নিরাপত্তাহীন।

মির্জাপুর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি গোলাম ফারুক সিদ্দিকী বলেন, এত বড় অপরাধের পর আবার স্বপদে বহাল। এটা মেনে নেওয়া যায় না।

মহিলা কলেজ পরিচালনা পরিষদের সভাপতি ও লতিফপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটের নির্দেশনা অনুযায়ী অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদকে পুনরায় কলেজে যোগদানের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

অভিযুক্ত অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদ জানান, তার বিরুদ্ধে অভিযোগের পর জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের কাছে আপিল করেন।

মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল মালেক বলেন, ঘটনার পর গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কলেজ পরিচালনা পরিষদ অধ্যক্ষ হারুন অর রশিদকে সাময়িক বরখাস্ত করে। পরিচালনা পরিষদের ব্যবস্থা নেওয়া বিধিসম্মত না হওয়ায় অধ্যক্ষ জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের নিকট আপিল করেন। তার আপিলের প্রেক্ষিতে সিন্ডিকেট তাকে কলেজে যোগদানের অনুমতি দেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত