নীলফামারী জেলায় প্রাণ ঘাতি করোনা ভাইরাস সংক্রমণ শনাক্তের সংখ্যা ৬০০ জন ছুঁয়েছে। বৃহস্পতিবার জেলা তাঁতি লীগের সভাপতি দেওয়ান সেলিম আহমেদসহ নতুন চারজনের দেহে কোভিড-১৯ শনাক্ত হয়েছে। এর আগে বুধবার পর্যন্ত জেলায় শনাক্তের সংখ্যা ছিল ৫৯৬ জন বলে বৃহস্পতিবার দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিভিল সার্জন ডা. রণজিৎ কুমার বর্মণ।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, বুধবার রাতে দিনাজপুর এম.আব্দুল রহিম মেডিকেল কলেজের পিসিআর ল্যাব থেকে ৪ জনের করোনা ভাইরাস সংক্রমণ শনাক্তের প্রতিবেদন আসে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগে।
এদের মধ্যে জেলা তাঁতি লীগের সভাপতি দেওয়ান সেলিম আহমেদ (৫৫), উত্তরা ইপিজেডের পরচুলা প্রস্তুতকারী এভারগ্রীন প্রোডাক্টস ফ্যাক্টরি (বিডি) লি. এর ২১ বছর বয়সী নারী কর্মচারী, ডিমলা উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়নে ৪৫ বছর বয়সী এক পুরুষ এবং জলঢাকা উপজেলায় ৭৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধ রয়েছেন।
করোনা ভাইরাস সংক্রমণ সন্দেহে গত ২ এপ্রিল থেকে ২২ জুলাই পর্যন্ত জেলার ছয় উপজেলায় মোট চার হাজার ৮৭২ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এর মধ্যে ২২ জুলাই পর্যন্ত চার হাজার ৪০৮ জনের নমুনার ফলাফলে জেলায় মোট ৬০০ জনের দেহে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ শনাক্ত হয়। তাদের মধ্যে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত জেলায় মোট ৪৭৬ জন সুস্থ হয়েছে আর মৃত্যুবরণ করেছেন ৯ জন।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, মোট শনাক্ত সংখ্যার মধ্যে জেলা সদরে সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হয়েছে। সদর উপজেলায় মোট ২৭৫ জন শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে তিনজন মৃত্যু বরণ করেছেন। আর সুস্থ হয়েছেন ১৯৬ জন, চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৭৬ জন।
সিভিল সার্জন ডা. রণজিৎ কুমার বর্মণ বলেন, ‘গত ৭ এপ্রিল কিশোরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন চিকিৎসা কর্মকর্তা (মেডিকেল কর্মকর্তা) জেলায় প্রথম করোনা ভাইরাস সংক্রমিত রোগী হিসেবে শনাক্ত হন। এর পর থেকেই শনাক্তের সংখ্যা বাড়তে থাকে। পর্যায়ক্রমে বৃদ্ধি পেয়ে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত জেলায় শনাক্তের সংখ্যা ৬০০ জনে গিয়ে পৌঁছায়। আর জেলায় কোভিড-১৯ শনাক্ত হওয়া প্রথম রোগীর মৃত্যু হয় ২৬ এপ্রিল। এর পর আরও ৮ জনের মৃত্যু হয় জেলায়।
